ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, বীরভূম : দুই দেশের যুদ্ধের মধ্যেও রাশিয়া এবং ইউক্রেনের সনাতনীরা পুজো দিতে এলেন তারাপীঠে। মায়ের কাছে পুজো দিয়ে তাঁদের আশা, তাড়াতাড়ি যুদ্ধ থেমে যাবে। দীর্ঘ চার বছর ধরে যুদ্ধ চলছে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে। তার মধ্যেই দুই দেশের সনাতনীরা কালীপুজোর দিন তারাপীঠে মা তারার কাছে এলেন পুজো দিতে, যাতে তাড়াতাড়ি যুদ্ধ থেমে যায়। রবিবার দীপান্বিতা অমাবস্যায় কালী পুজোর দিনে ১৫ জনের একটি দল তারাপীঠে আসেন পুজো দিতে। অন্যান্য সাধারণ দর্শনার্থীদের মতোই লাইনে দাঁড়িয়ে তাঁরা মায়ের কাছে পুজো দেন। ভক্তি ভরে পুজো দিয়ে মাথায় তিলক কেটে তারা বাইরে আসেন। তাঁদের মধ্যে রাশিয়ার বাসিন্দা অজয় গিরি জানান, তাঁরা মায়ের কাছে পুজো দিতে এসেছিলেন। রাশিয়া এবং ইউক্রেন থেকে এসেছেন এই পুণ্যার্থীরা। মূলত তাঁরা সনাতনী। মা কালী শক্তির প্রতীক। যাতে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ থেমে যায়, তার জন্য প্রার্থনা করতেই পুজো দিতে এসেছিলেন তাঁরা। 

যুদ্ধক্ষেত্রে ঘোর শত্রুতা, কিন্তু আধ্যাত্মিকতার সুতোয় তাঁরা ধরা দিলেন মায়ের কাছে বীরভূমের তারাপীঠে। দুই দেশের মধ্যে সংঘাত থামার প্রার্থনা নিয়ে বীরভূমের তারাপীঠে পুজো দিলেন রাশিয়া ও ইউক্রেনের বাসিন্দারা। সবার প্রার্থনা একটাই – দ্রুত থামুক যুদ্ধ, ফিরুক শান্তি। রাশিয়ার বাসিন্দা অজয় গিরি জানিয়েছেন, ‘আমি রাশিয়া থেকে এসেছি। আমরা সবাই রাশিয়া থেকে এসেছি। অনেকে ইউক্রেন থেকেও এসেছেন। কিন্তু, যুদ্ধ নয়, প্রার্থনা করতে এসেছে। আমরা সনাতনী।’ 

আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ, ড্রোন হামলা, রক্তক্ষয়ী লড়াই – স্কুলে, হাসপাতালে বোমা, নিরীহ নাগরিকদের মৃত্যু। গত সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ চলছেই। এই আবহে, যুদ্ধ থামার প্রার্থনা নিয়ে রবিবার তারাপীঠে মায়ের কাছে পুজো দিল রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আসা ১৫ জনের এই দল। রাশিয়ার বাসিন্দা অজয় গিরির কথায়, ‘আমরা মা শক্তি মহাদেবে বিশ্বাসী, কর্ম-ধর্মে বিশ্বাসী। জয় মা তারা। আমরা প্রার্থনা করেছি, আমরা আশা রাখি।’ 

দীপাবলি মানেই আলোর উৎসব। ঘরে ঘরে জ্বলে ওঠে দীপের আলো। অশুভ শক্তির বিনাশে শুভ শক্তির আরাধনা। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথির গভীর রাতে যোগিনী পরিবৃতা হয়ে আবির্ভূতা হন মা কালী। আর সেই শক্তির আরাধনায় মেতে ওঠে আপামর বাঙালি। রাজ্যজুড়ে চলছে শক্তিরূপী দেবীর আরাধনার আয়োজন৷ দক্ষিণেশ্বর থেকে তারাপীঠ, লেক কালীবাড়ি থেকে ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি… কলকাতা সহ রাজ্য়ের বিভিন্ন কালীতীর্থে চলছে শক্তির আরাধনা। মন্দিরে মন্দিরে হচ্ছে পুজো পাঠ, যজ্ঞ, আরতি। সন্ধে নামতেই মাকে দেখতে ভক্তদের ভিড়। মায়ের আরাধনার পাশাপাশি আলোর উৎসবে মাতোয়ারা গোটা রাজ্য়। 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *