শান্তিপুর: নদিয়ার শান্তিপুরে বিখ্যাত সেই বামাকালী (Shantipur Bamakali)। এই কালীপুজোর বিশেষত্ব হল, নিরঞ্জনের সময় বাঁশের মাচায় করে প্রতিমাকে নিয়ে যাওয়া হয়। শান্তিপুরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলি পরিক্রমা করার পর প্রতিমা নিরঞ্জনের আগে বিখ্যাত সেই নাচ। সমাজমাধ্যমের যুগে যা ভাইরাল।
একটা সময় নদিয়ার শান্তিপুরের খ্যাতি ছিল তাঁতশিল্প, রাস উৎসব ও বৈষ্ণব সংস্কৃতির জন্য। তবে বামাকালীও এখন সেই খ্যাতির অঙ্গ। দেবীর উগ্র মূর্তি, প্রদীপের আলোয় পুজো দেখতে দূর দূরান্ত থেকে ভক্ত সমাগম হয়। সঙ্গে বাড়তি আকর্ষণ, বিসর্জনের সময় ভক্তদের কাঁধে চেপে ঢাকের তালে তালে দেবীর নৃত্য।
বাংলার কালী আরাধনার এক অনন্য রূপ শান্তিপুরের এই বামাকালীর পুজো। শান্তিপুরের বামাকালীকে ঘিরে দুটি পৃথক ইতিহাস রয়েছে। অনেকের মতে, এই পুজো শুরু হয় স্বাধীনতারও আগে, ১৯৪৬ সালে। কথিত আছে, সাম্প্রদায়িক অশান্তির মাঝে শান্তি ও সম্প্রীতির খোঁজে শান্তিপুরের কিছু উৎসাহী যুবক স্থানীয় কালী মুখার্জির মাঠে এই পুজো শুরু করেন। এই দেবী পরবর্তী কালে বোম্বাট কালী নামেও পরিচিতি লাভ করেন।
কথিত আছে, বিসর্জনের সময় কালীমূর্তির যে নাচ, তা শুরু হয়েছিল ১৯৬৯ সালে। আরেক জনশ্রুতি হল, প্রথমে ঘটপুজো হতো। পরে প্রতিমাপূজো শুরু হয়। অনেকের মতে, স্বপ্নাদেশ পেয়ে যমুনা চৌধুরী এই পুজো শুরু করেছিলেন এবং শুরুতে এই প্রতিমা যমুনা কালী নামে পরিচিত ছিলেন। পরে তিনিই বামা কালী নামে পূজিত হন। এবছরও বামাকালীর আরাধনা ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা রয়েছে চোখে পড়ার মতো।
দীপাবলি মানেই আলোর উৎসব। ঘরে ঘরে জ্বলে ওঠে দীপের আলো। অশুভ শক্তির বিনাশে শুভ শক্তির আরাধনা। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথির গভীর রাতে যোগিনী পরিবৃতা হয়ে আবির্ভূতা হন মা কালী। আর সেই শক্তির আরাধনায় মেতে ওঠে আপামর বাঙালি।
রাজ্যজুড়ে চলছে শক্তিরূপী দেবীর আরাধনার আয়োজন৷ দক্ষিণেশ্বর থেকে তারাপীঠ, লেক কালীবাড়ি থেকে ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি… কলকাতা সহ রাজ্য়ের বিভিন্ন কালীতীর্থে চলছে শক্তির আরাধনা। মন্দিরে মন্দিরে হচ্ছে পুজো পাঠ, যজ্ঞ, আরতি। মাকে দেখতে সকাল থেকেই ভক্তদের ভিড়। মায়ের আরাধনার পাশাপাশি আলোর উৎসবে মাতোয়ারা গোটা রাজ্য়। লাল-নীল-সবুজ, নানা রঙের স্রোতে ভেসেছে শহর।
আরও পড়ুন: কালীপুজোর পরের দিন থেকেই ফের বৃষ্টি! ভাইফোঁটায় কেমন থাকবে আবহাওয়া? কী জানাল হাওয়া অফিস?