কলকাতা: তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে ফের মুখ খুললেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ও অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী (Chiranjeet Chakraborty)। বললেন, শেষ ১০ বছর গুছিয়েছে খালি। আমি প্রত্য়াশা করিনি, যে পুরো দলটাই ভ্য়ানিশ হয়ে যাবে। লোকসভায় ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদের NCPI-তে মিশে যাওয়া নিয়েও এদিন কটাক্ষ করেন চিরঞ্জিত চক্রবর্তী।
তৃণমূল ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পরও সামনে এসেই চলেছে তৃণমূল জমানার দুর্নীতির অভিযোগ! এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে ফের মুখ খুললেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ও অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। তৃণমূল আমলেই অভিনয় থেকে রাজনীতিতে আসেন তিনি। পরপর ৩ বারের বিধায়ক। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীনও একাধিকবার দলের কর্মকাণ্ড নিয়ে সুর চড়িয়েছিলেন। এবার তৃণমূল ক্ষমতাচ্য়ুত হওয়ার পর ফের সরব তিনি।
দল থেকে বেরিয়ে এসেও, তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে সরব চিরঞ্জিত চক্রবর্তী
এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতির যে পরিস্থিতি, তা নিয়ে কী মতামত প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ও অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী? তিনি বলছেন, ‘১৫ বছর MLA থেকে অনুভব করেছি, মানুষ উন্নয়ন চায়। এই উন্নয়নের ধারাটাকে বজায় রাখাই যে কোনও রাজনৈতিক দলের কাজ হওয়া উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, অপ্রত্য়াশিতভাবে একটা স্টেজ আসে, ৫ বছর পর থেকে যেটা হয়, যে কোনও সরকারের ক্ষেত্রে দেখেছি, ডিক্লাইন করতে থাকে। তারা নিজেদের গোছাতে আরম্ভ করে, একেবারে আমাদের তৃণমূল যেটা করেছে। পাঁচ বছরের পর থেকে, গোছানোয় মন দিয়ে দিল। শেষ ১০ বছর, শুধু গুছিয়েছে। সেই কারণেই আমার আগ্রহ কমে গিয়েছিল। আমি বলেছিলাম, আমি ছেড়ে দেব, থাকব না। এবং আমি ছেড়ে দিলাম ও, বেরিয়ে গেলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হল এটাই যে, আমি যখন ছেড়ে বেরিয়ে এলাম, তখন আওয়াজ শুনে পিছনে ঘুরে দেখলাম, বাড়িটাই ভেঙে পড়ে গিয়েছে। এটা দুর্ভাগ্য, এটা আমি প্রত্যাশা করিনি। সরকার তো গেলই, কিন্তু ভাবিনি গোটা দলটাই ভ্যানিশ হয়ে যাবে।’
১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় যে অভিযোগ বারবার উঠেছে – তা হল দুর্নীতি। সারদা থেকে রোজভ্য়ালি। শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য়! গরুপাচার থেকে কয়লা পাচার! ভুরি ভুরি দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে বারবার তোলপাড় পড়ে গেছে রাজ্য়ে। অবশেষে এবারের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছেন ভোটাররা। তারপরই ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের দল। তৈরি হয়েছে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভায় ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ মিশে গেছেন NCPI-তে। এদিন তা নিয়েও নাম না করে কটাক্ষ করেন চিরঞ্জিত চক্রবর্তী।