কলকাতা: বছরের অন্যতম শুভ কেনাকাটার উৎসব ধনতেরাস। এই দিনে সোনা, রুপো কিংবা নতুন বাসনপত্র কেনার রীতি দীর্ঘদিনের। প্রচলিত বিশ্বাস, ধনতেরাসে শুভ মুহূর্তে নতুন জিনিস বাড়িতে আনলে সংসারে সুখ, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য আসে। তাই উৎসবের আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় কেনাকাটার প্রস্তুতি। কিন্তু ২০২৬ সালে ধনতেরাস কবে? কোন সময়ে সোনা বা রুপো কিনলে শুভ? সকাল, দুপুর নাকি সন্ধ্যা—কখন বাজারে যাওয়া সবচেয়ে ভাল? জেনে নিন দিনক্ষণ ও পুজোর সময়সূচি।

কবে ধনতেরাস ২০২৬?

২০২৬ সালে ৬ নভেম্বর, শুক্রবার পালিত হবে ধনতেরাস। এই উৎসব ধনত্রয়োদশী নামেও পরিচিত। কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে ধনতেরাস পালিত হয়।

কলকাতার স্থানীয় সময় অনুযায়ী, ৬ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩১ মিনিটে শুরু হবে ত্রয়োদশী তিথি। পরের দিন অর্থাৎ ৭ নভেম্বর সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে শেষ হবে এই তিথি। ফলে ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় পুজোর সময়ও ত্রয়োদশী তিথি বজায় থাকবে।

ধনতেরাসে সোনা-রুপো কেনার শুভ সময় কখন?

ধনতেরাসে সোনা, রুপো, গয়না, কয়েন কিংবা নতুন ধাতব বাসন কেনার বিশেষ প্রচলন রয়েছে। কলকাতার জন্য প্রকাশিত পঞ্জিকা অনুযায়ী, ৬ নভেম্বর কেনাকাটার কয়েকটি অনুকূল সময় রয়েছে।

সকালের শুভ সময়: সকাল ১১টা ২০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত।

বিকেলের শুভ সময়: বিকেল ৩টে ৩২ মিনিট থেকে ৪টে ৫৬ মিনিট পর্যন্ত।

রাতের শুভ সময়: রাত ৮টা ৮ মিনিট থেকে ৯টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত।

তবে এই সময়গুলি চৌঘড়িয়া মুহূর্তের ভিত্তিতে নির্ধারিত। পঞ্জিকা ও গণনাপদ্ধতি অনুযায়ী সময়ের কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। তাই কেনাকাটার আগে স্থানীয় পঞ্জিকা মিলিয়ে নেওয়া ভাল।

কলকাতায় ধনতেরাসের পুজোর শুভ মুহূর্ত

শুধু কেনাকাটা নয়, ধনতেরাসে লক্ষ্মী, গণেশ ও কুবেরের আরাধনারও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কলকাতায় ৬ নভেম্বর লক্ষ্মী-কুবের পুজোর শুভ সময় বিকেল ৫টা ২৮ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত। অর্থাৎ প্রায় ১ ঘণ্টা ৫৮ মিনিট ধরে থাকবে পুজোর শুভ মুহূর্ত।

এ দিন বিকেল ৪টে ৫৬ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত থাকবে প্রদোষকাল। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রদোষকালে লক্ষ্মীর আরাধনা করলে সংসারে সুখ ও সমৃদ্ধি আসে।

ধনতেরাসে কী কী কেনা শুভ বলে মনে করা হয়?

ধনতেরাসে সোনা ও রুপোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধাতব সামগ্রী কেনার রীতি রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে নতুন জিনিস বাড়িতে আনলে শুভ ফল পাওয়া যায়।

এই দিনে সাধারণত কেনা হয়—

১. সোনা ও রুপোর গয়না।
২. সোনা ও রুপোর কয়েন।
৩. পিতল ও তামার বাসনপত্র।
৪. রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় নতুন সামগ্রী।
৫. লক্ষ্মী-গণেশের মূর্তি।
৬. ঘরের প্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিসপত্র।

তবে কেনাকাটার ক্ষেত্রে নিজের প্রয়োজন ও আর্থিক সামর্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সোনা বা রুপো কিনলে হলমার্ক, বিশুদ্ধতা, ওজন, মজুরি ও জিএসটি যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

ধনতেরাসে কেন লক্ষ্মী, কুবের ও ধন্বন্তরির পুজো করা হয়?

হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরাসে দেবী লক্ষ্মী ও ধনসম্পদের অধিপতি কুবেরের আরাধনা করা হয়। সংসারে আর্থিক সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য কামনায় এই পুজো করেন ভক্তরা।

পাশাপাশি এই দিন ভগবান ধন্বন্তরির পুজোরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পুরাণ অনুযায়ী, সমুদ্রমন্থনের সময় অমৃতের কলস হাতে ধন্বন্তরির আবির্ভাব হয়েছিল। তাঁকে আয়ুর্বেদ ও চিকিৎসাশাস্ত্রের দেবতা হিসেবে মানা হয়। তাই ধনতেরাসে শুধু ধনসম্পদ নয়, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনাতেও তাঁর আরাধনা করা হয়।

এ ছাড়াও ধনতেরাসে যমদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের মঙ্গল ও অকালমৃত্যুর আশঙ্কা দূর করার প্রার্থনায় বাড়ির বাইরে প্রদীপ জ্বালানো হয়।

সব মিলিয়ে ৬ নভেম্বর ধনতেরাস উপলক্ষে কেনাকাটা ও পুজোর প্রস্তুতি শুরু করে দিতে পারেন। তবে শুভ মুহূর্তের সময় পঞ্জিকাভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নিজের এলাকার পুরোহিত বা স্থানীয় পঞ্জিকার সঙ্গে সময় মিলিয়ে নেওয়াই ভাল।

ডিসক্লেমার : ধর্মীয় বিশ্বাস নিজস্ব। এ ব্যাপারে কোনও মতামত এবিপি লাইভের নেই। এবিপি লাইভ ধর্ম সম্পর্কিত কোনো সম্পাদকীয় / সম্পাদক-নিয়ন্ত্রিত তথ্য, পরামর্শ প্রদান করে না। প্রদত্ত পরামর্শ ও তথ্য প্রয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *