কলকাতা: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সর্বসম্মতভাবে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পাস হল বিরোধী INDI জোটের প্রতীকী সভায়। তাদের কাছে জ্ঞানেশ কুমারকে তাঁর পদ থেকে সরানোর মতো একাধিক প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি রাহুল গান্ধীর। মমতা তৃণমূলের অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার মোদি-অমিত শাহের অঙ্গুলি হেলনে কাজ করছেন। এরা সংবিধানের মর্যাদা নষ্ট করতে চান। বিরোধীদের কটাক্ষ করে পাল্টা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। 

আরও পড়ুন, কালীপুজোয় আগে ফের বাড়ল গ্যাসের দাম

ভোট চুরির অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনল বিরোধীরা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার থেকে প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে,ক্ষোভ উগরে দিলেন উপস্থিত সভার সদস্যরা। শেষে সভায় পাস হল ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব। তবে সবটাই হল প্রতীকীভাবে। রবিবার রামলীলা ময়দানে মেগা সমাবেশের আগে, শনিবার জ্ঞানেশ কুমারের ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচিকে ঘিরে এভাবেই মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়াল বিরোধীরা। 
 
রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, সাংসদ ভাঙিয়েছে, রাজনৈতিক দল ভেঙেছে, সরকার ফেলে দিয়েছে এবং নির্বাচনী বন্ড, ইডি এবং সিবিআই ব্যবহার করেছে এবং এখন তারা ভোট চুরি করছে। ভোট চুরির শত শত উদাহরণ আমাদের কাছে আছে। সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে  বিজেপি সাংসদ ও মুখপাত্র সম্বিত পাত্র জানিয়েছেন,ভোট চুরি হয়েছিল। পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতাদের ভোট চুরি করে যাঁরা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে প্রধানমন্ত্রী বানানোর জন্য ভোট দিয়েছিলেন, সেই ভোট চুরি করে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু দেশের প্রধানমন্ত্রী হন।
 
দিল্লির ১০ নম্বর রাজাজি মার্গে, রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে এদিন কর্মসূচির আয়োজন করেছিল বিরোধীরা।সভার সভাপতিত্ব করেন লোকসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ মীরা কুমার। প্রতীকী সভায় জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। তারপর একে একে সুর চড়ান লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী দলের সাংসদরা। লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী বলেন, ‘যে প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করার শপথ নিয়েছিলেন, সেই প্রতিষ্ঠানেরই আড়ালে লুকোচ্ছেন আপনি (জ্ঞানেশ কুমার)। মনে রাখবেন, আপনি (জ্ঞানেশ কুমার) সবসময় লুকোতে পারবেন না। একদিন, আজ অথবা কাল, আপনাকে (জ্ঞানেশ কুমার) জনগণের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হতে হবে।  এর শীর্ষে রয়েছেন মিস্টার মোদি এবং মিস্টার শাহ, তাদের সঙ্গে বোঝাপড়া পরে হবে, কিন্তু, আপনি (জ্ঞানেশ কুমার) তাদের ইনস্ট্রুমেন্ট, তাই আমাদের প্রথম টার্গেট আপনি।’
 
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, এই মুহূর্তে দেশের বিরোধী-পক্ষ নিজেদের কর্তব্য ভুলে বিরোধিতার বদলে অবরোধ-পক্ষে পরিণত হয়েছে। নিজেদের হতাশা, নিরাশার কারণে তারা দেশের বিকাশের সামনে অবরোধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা বিরোধিতা নয়, এটা অবরোধ, আর একেই নিজেদের রাজনীতি বানিয়ে ফেলেছেন বিরোধীরা। এই লোকেরা সংবিধানের মর্যাদা নষ্ট করতে চান। এদিনের প্রতীকী সভায় জ্ঞানেশ কুমার-সহ নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহকে নিশানা করেন INDI জোটের সাংসদরাও। মমতা তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, এই অপরাধী, গণতন্ত্রের এই হত্যাকারী জ্ঞানেশ কুমার গিনিপিগ হিসেবে সুকুমার সেনের মায়ের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গকে বেছে নিয়েছিলেন।  SIR-এর গোটা এই পরিকল্পনা করেছে বিজেপি। জ্ঞানেশ কুমার শুধুই একজন হাতের পুতুল। আর পুতুল নাচের কারিগড় হলেন অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদি। 
 
সমাজবাদী পার্টি সভাপতি  অখিলেশ যাদব বলেন,’নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়। গণতন্ত্র ও সংবিধানের জন্য় সবচেয়ে বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভারতীয় জনতা পার্টি নেতিবাচক চিন্তার দল। রাজনৈতিক দল নয় (বিজেপি), তারা গ্য়াং।’পাল্টা উত্তর দিয়েছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী  ও বিজেপি সাংসদ গিরিরাজ সিং বলেন, ‘কেরলমে আপনাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশজি বলেছেন, SIR-না হলে আমাদের সরকার তৈরি হত না। যদি তিনি ভুল হন, তাহলে সরকার ভেঙে দিচ্ছেন না কেন? EVM-এর উপর ভরসা না থাকলে হিমাচলের সরকারকে ভেঙে দিচ্ছেন না কেন? নির্বাচনে ভোট চুরি হচ্ছে না, চোরেদের ভোট দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে মানুষ।”ভোট চোর গদ্দি ছোড়’। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই স্লোগানকে সামনে রেখেই শুরু হয়েছিল বিরোধীদের আন্দোলন। শনিবার সেই আন্দোলনের সুর আরও চড়াল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিজেপি বিরোধী INDI জোট। রবিবার একই ইস্যুতে মেগা RALLY করবে বিরোধী INDI জোট।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *