বিধানসভা নির্বাচনের ফলে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই তিনি তৃণমূলের বিভিন্ন নেতানেত্রীদের কীর্তিকলাপ সম্পর্কে সরব। নিজের ‘তৃণমূল পরিচয়’ ত্যাগ করে এখন তিনি NCPI সাংসদ। কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবার কড়া ভাষায় ইন্দ্রনীল সেনের সমালোচনা করলেন। বললেন, শুধু উনি নন, ওঁর সাঙ্গপাঙ্গদেরও গ্রেফতার হওয়া উচিত। ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে তুললেন নারী নির্যাতনের অভিযোগও। এমনকী তাঁর সিঙ্গুরের বাগানবাড়িটিতে বুলডোজার চালানোর যে দাবি স্থানীয়রা তুলেছেন, তাতেও সহমত পোষণ করলেন কাকলি।
প্রাক্তন তৃণমূল , অধুনা এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ইন্দ্রনীল সেনকে কার্যত গুন্ডা বলে আক্রমণ করলেন। লিখলেন, নারী নির্যাতন খুনের মতো ক্ষমতার অপব্যবহার… শুধু একা মন্ত্রী নন সঙ্গপাঙ্গদেরও গ্রেফতারের দাবি জানাই। এবিপি আনন্দকে দেওয়া টেলিফোনিক প্রতিক্রিয়ায় কাকলি জানালেন, ‘এইভাবে একটা আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনেস্কোর সিম্বলটা বা তার নাম ভাঙিয়ে করাটা অত্যন্ত অন্যায়। এটা মানে প্রায় দেশকে বেচে দেওয়ার মতন ব্যাপার। সেটা একটা উনি অন্যায় করেছেন। তারপরে দুর্গাপুজো … যেটা আমাদের শুধু বাঙালির নয়, বিশ্ববাসীর কাছে… সেখানে ঠাকুর দেখতে গিয়ে পাশের পয়সা দিতে হবে, এই দুর্ভাবনাটা যে মাথায় এসেছে এই দুষ্কর্মটা করার জন্য ওনাকে গ্রেফতার করেছে। সমর্থন করি, আমি সম্পূর্ণভাবে। ‘
সিঙ্গুরের বাগডাঙ্গা ছিনামোর পঞ্চায়েতে ইন্দ্রনীল সেনের বিলাসবহুল বাগানবাড়ি রয়েছে। বিরাট এলাকাজুড়ে তৈরি এই বাগানবাড়িতে রয়েছে বড় সুইমিং পুলও। সেই বাড়িতে বিভিন্ন রকম কার্যকলাপ, কালো কাচ লাগানো গাড়িতে রাতে মানুষের যাতায়াত, ঘুঙুরের শব্দ, এমন নানাবিধ অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। সেই বিষয় নিয়েও মুখ খোলেন কাকলি। ‘ সিঙ্গুরে বাড়ি ছিল এটা আমার জানার ছিল না। সেখানে উনি একটা বাড়ি বানিয়েছেন, প্রাসাদতুল্য। এবং আমি তো ওটা লিখে দিয়েছি যে ওখানে তো ওই বুলডোজার চালানো উচিত। স্বামী বাসিন্দা বলছে রাতের অন্ধকারে বারোটার পরে নাকি ওখানে কালো কাচে ঢাকা গাড়ি মেয়েদের নিয়ে আসত। একজন মন্ত্রী হিসেবে উনি অত্যন্ত গর্হিত অন্যায় করেছেন এবং উনি তো একা করেননি। ওই গাড়ি করে আরও লোক আসত বলে ওখানকার জনসাধারণ বলছে। তাদের সকলকেই অ্যারেস্ট করার দাবি জানাই। যে অন্যায়টা করেছেন মহিলাদের উপরে, নারী নির্যাতন… তার সমানই । মহিলাদেরকে গানের বরাদ্দ পাইয়ে দেবো বা অন্য কোথাও কোনো ফেভার পাইয়ে দেবো বলে এটা ব্যবহার করাটা আমি মনে করি অন্যায়। ‘