কলকাতা: বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে। তিন বছর পর লোকসভা ভোটে কী হবে? ভেঙে টুকরো হয়ে যাওয়া তৃণমূল কি আদৌ ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? এই প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। এর মধ্যে শুক্রবার ডায়মন্ড হারবার নিয়ে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন শুভেন্দু অধিকারী। যা নিয়ে পাল্টা মুখ খুলেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদও।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘তুমি যত ভোটে জিতেছিলে, তার থেকে একটা হলেও বেশি ভোটে তোমাকে হারাব।’ বিধানসভা ভোটে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। পনেরো বছর ক্ষমতায় থাকা দল মানুষের রায়ে একশোর নীচে নেমে গেছে। তারপর বিদ্রোহের জেরে তা এখন টুকরো টুকরো।
মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৈরি দলের নাম এবং প্রতীক এখন তাঁরই হাতছাড়া। সামনে আসছে তৃণমূল জমানার ভুরি ভুরি দুর্নীতির অভিযোগ। এই প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে, ২০২৯-এর ভোটে কী হবে? এই আবহে শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সভা থেকে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘৬ মাস তো ঢুকতে পারনি ভাইপো বাবু। তোমাকে আমি খোলা চ্যালেঞ্জ দিয়ে গেলাম। তুমি ডায়মন্ড হারবারে লোকসভা ভোটে দাঁড়াও। তুমি যত ভোটে জিতেছিলে, তার থেকে একটা হলেও বেশি ভোটে তোমাকে হারাব। সিপিএম তোমাকে ভোট দিলেও, তোমার জামানত আমি জব্দ করব। যদি বাপের ব্যাটা হও, ‘২৯-এর নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারে লড়ো।’
কার্যত একসুর শোনা গেছে বিরোধী দলনেতার গলাতেও। ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় বলেন, ‘উনি ডায়মন্ড হারবার যেতে পারছেন না। ডায়মন্ড হারবার যাচ্ছেন না। নিজের লোকসভা কেন্দ্র। উনি ডায়মন্ড হারবারে যান না। উনি ডায়মন্ড হারবারে নিজের জমানত ‘২৯-এ থাকবে কিনা আমার একটা আশঙ্কা রয়েছে।’
মমতা তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি ডায়মন্ড হারবারেও যাব, কাঁথিতেও যাব, নদিয়াতেও যাব। আমাকে নিয়ে ওনাকে চিন্তিত থাকতে বারণ করুন। আসলে চুরি করে জিতেছেন তো। তাই এখনও উনি ঘুম থেকে উঠছেন, ঘুমাতে যাচ্ছেন। শয়নে স্বপনে অভিষেককেই দেখছেন।’
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে জাতীয় স্তরে পাশাপাশি এসেছে সিপিএম এবং মমতা-তৃণমূল কংগ্রেস। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি-র সঙ্গে ফোনে কথাও হয়েছে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের। indi জোটের বৈঠকেও দেখা গেছে দু’জনকে। সেই প্রসঙ্গ টেনে এদিন কটাক্ষ ছুড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, ‘মাকুরা, যারা বলে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’, টুকরে টুকরে গ্যাং। সুজন-সূর্য বলে আমরা নাস্তিক। তারা আর মমতা-তৃণমূল এখন এক হয়েছে। এই তৃণমূলটা তৈরি হয়েছিল তখন অটলজিও আশীর্বাদ করেছিলেন। সিপিএমের অত্যাচার থেকে বাংলাকে বাঁচানোর জন্য। আর আজকে বেবি আর আন্টি দু’জনে একসঙ্গে চা খাচ্ছেন। বলছে, আমরা দু’জন ভাই আর বোন।’
সব মিলিয়ে তরজার আঁচে রাজ্য রাজনীতি এখন ফুটছে।