সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়, হুগলি : উত্তরপাড়ায় বালি চুরির পর্দাফাঁস, হাতেনাতে গ্রেফতার ২ অভিযুক্ত। ধৃত কুন্দন সাহানি ও লক্ষ্মণ সাহানি দুজনেই উত্তরপাড়া থানা এলাকার বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে খবর। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালায় উত্তরপাড়া থানা। শিবমন্দির ঘাটের কাছ থেকে পাকড়াও করা হয় ২ জনকে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ঘনফুট সাদা বালি সহ একটা নৌকা। পুলিশের দাবি, ধৃতরা জেরায় জানিয়েছে গঙ্গা থেকে বালি তুলে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করার উদ্দেশ্য ছিল তাঁদের। এই বালি পাচার চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। বুধবার ধৃত ২ জনকে পেশ করা হয়েছে শ্রীরামপুর আদালতে। উত্তরপাড়ায় গঙ্গার বুক থেকে বেআইনিভাবে সাদা বালি তোলা রুখতে অভিযান চালাল পুলিশ। গ্রেফতার করা হল ২ জনকে। প্রায় ৪ হাজার ঘনফুট সাদা বালি-সহ বাজেয়াপ্ত করা হল নৌকা। 

কোটি কোটি টাকার মাটি চুরির অভিযোগ, আরও বিপাকে অভিষেকের PA, নতুন মামলায় গ্রেফতার সুমিত রায় 

গঙ্গার ঘাটে দাঁড়িয়ে সার সার নৌকো। তাতে তোলা হচ্ছে ঝুড়ি ঝুড়ি সাদা বালি। অভিযোগ, পুরোটাই বেআইনি। সেই বালি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। উত্তরপাড়ায় গঙ্গার বুক থেকে বেআইনিভাবে সাদা বালি তোলা রুখতে অভিযান চালাল উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। গ্রেফতার করা হল কুন্দন সাহানি ও লক্ষ্মণ সাহানি নামে দুই ব্যক্তিকে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালায় উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। শিবমন্দির ঘাটের কাছ থেকে পাকড়াও করা হয় এই ২ জনকে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন জোয়ারের সময় বেআইনিভাবে এই বালি তুলে, তারপর তা বিক্রি করে দেওয়া হয় বিভিন্ন ইটভাটায়। এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। ২ জনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ হাজার ঘনফুট সাদা বালি-সহ একটি নৌকা বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। 

বালি ব্যবসায়ী লক্ষণ চৌধুরীকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, বালি তোলার জন্য কোনও নথি তাঁর কাছে আছে কিনা। জবাব তিনি বলেন, ‘না। সেরকম আজ থেকে বহুদিন আগে দিয়েছিল। এখন আপাতত সেরকম নথি আমাদেরকে দেয় না।’ অন্যদিকে, নৌকোর মালিক অর্জুন চৌধুরী বলেছেন, ‘প্রশাসন যবে থেকে উত্তরপাড়ায় বলেছে, বন্ধ করেছি। আমার বোট সরকারি কাজে হাওড়াতে চলছে। প্রশাসনের সামনে চলছে। ৩-৪ বোট এইখানে চলছে। সারাদিনে একবারই ওঠে।’ এক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, ‘ভাটার টাইমে নৌকো থেকে বালি তোলা হয়। আর জোয়ারের টাইমে গঙ্গার বালি খাল দিয়ে ওদিকে ভাটার দিকে সব বিক্রি করা হয়।’ 

এই ঘটনায় সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য আভাস মুন্সী জানিয়েছেন, ‘এই কাজ করার সাহস পাচ্ছে কোথা থেকে? নিশ্চিতভাবে প্রশাসনিক হতে পারে বা কোনও বিশিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তিরা হতে পারে। তাঁরা কোথাও মদত করছে।’ অন্যদিকে, উত্তরপাড়ার বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী বলেছেন, ‘দুটো ব্যাপার, দুর্নীতি এবং মহিলাদের ওপর অপরাধ। এতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলছি। আমি নিশ্চিত যে আজকের অন্তত আগামী ৫ বছর এর পুনরাবৃত্তি হবে না। যে লোকগুলো সিস্টেমের ভিতরে থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা কামিয়েছে, এই সব চোরকে তো আমরা আর একদিনে শেষ করতে পারি না।’ 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *