কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে ফের নিম্নচাপের ভ্রুকুটি! দক্ষিণ আন্দামান সাগরে তৈরি হয়েছে নিম্নচাপ অঞ্চল। এই নিম্নচাপ ক্রমশ উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে ভারতীয় উপকূলের দিকে আসতে পারে বলে প্রাথমিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে ইঙ্গিত। পরবর্তী সময়ে সেটি শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে অনুকূল পরিস্থিতি পেলে নিম্নচাপটির শক্তি বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না আবহাওয়াবিদদের একাংশ।

দক্ষিণ আন্দামান সাগরে নিম্নচাপ

আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা জানিয়েছেন, ২৮ অক্টোবর রাত ১০টার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দক্ষিণ আন্দামান সাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত নিম্নচাপ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেটি উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ অতিক্রম করে পূর্ব ভারতের উপকূলের দিকে এগোতে পারে। তবে নিম্নচাপের সম্ভাব্য গতিপথ ও শক্তি কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর।

ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে নিম্নচাপ?

এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, দক্ষিণ আন্দামান সাগরের নিম্নচাপটি কি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে? প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, নিম্নচাপটির শক্তি বাড়ার জন্য কিছু অনুকূল পরিস্থিতি রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের অনুকূল তাপমাত্রা এবং বাতাসের উল্লম্ব শিয়ারের তুলনামূলক অনুকূল পরিস্থিতি প্রাথমিক পর্যায়ে নিম্নচাপের শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে।

তবে এখনই ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত নিশ্চয়তা নেই। নিম্নচাপটি প্রথমে আরও শক্তিশালী হয়ে নিম্নচাপের পরবর্তী পর্যায়ে পৌঁছবে কি না, এমনকী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না, তা আগামী দিনের পর্যবেক্ষণেই স্পষ্ট হবে।

কী কী বাধা আসতে পারে নিম্নচাপের পথে?

নিম্নচাপটির শক্তি বাড়ার পথে বাধাও রয়েছে। আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে উত্তর দিক থেকে ঠান্ডা বাতাসের প্রবাহ পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। পাশাপাশি, উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা এগিয়ে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে। এই দুই পরিস্থিতি নিম্নচাপের গতিপথ ও শক্তি বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নিম্নচাপটি যদি উত্তর দিকে এগিয়ে উত্তর ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপকূলের দিকে অগ্রসর হয়, সে ক্ষেত্রে আবহাওয়ার পরিস্থিতি কীভাবে বদলায়, তার উপর বিশেষ নজর থাকবে। তবে পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলাদেশের উপকূলে ঝড় আছড়ে পড়বে, এমন কোনও চূড়ান্ত পূর্বাভাস এখনও নেই।

কোথায় আছড়ে পড়তে পারে ঝড়?

এই মুহূর্তে সম্ভাব্য স্থলভাগে প্রবেশের জায়গা নির্দিষ্ট করা হয়নি। বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুযায়ী, নিম্নচাপটি শক্তি বাড়ালে উত্তর তামিলনাড়ু থেকে ওড়িশা উপকূলের মধ্যবর্তী কোনও অংশের দিকে এগোনোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আবার গতিপথে পরিবর্তন হয়ে সেটি বাঁক নিতে পারে কি না, তা নিয়েও এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। অর্থাৎ, বাংলার উপকূলের উপর সরাসরি কোনও প্রভাব পড়বে কি না, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। নিম্নচাপের অবস্থান, গতিবেগ, শক্তি এবং বায়ুমণ্ডলের পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হলে সম্ভাব্য গতিপথ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ধারণা পাওয়া যাবে।

বাংলার আবহাওয়ায় কী প্রভাব পড়তে পারে?

নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে পূর্ব ভারতের উপকূলের কাছে পৌঁছলে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ার উপর তার সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখতে হবে। তবে এই মুহূর্তে বাংলায় ভারী বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া বা ঘূর্ণিঝড়ের নির্দিষ্ট সতর্কতা জারি হয়েছে বলে এই পর্যবেক্ষণ থেকে দাবি করা যায় না, আগামী কয়েক দিনে নিম্নচাপটির অবস্থান ও শক্তির পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা জরুরি। নতুন আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে গতিপথ বা সম্ভাব্য প্রভাবের কোনও পরিবর্তন ধরা পড়লে পূর্বাভাসও বদলাতে পারে।

সব মিলিয়ে, দক্ষিণ আন্দামান সাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ এখনই ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে অনুকূল ও প্রতিকূল, দুই ধরনের আবহাওয়া পরিস্থিতিই থাকায় আগামী কয়েক দিন এই নিম্নচাপের গতিপ্রকৃতি গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *