শান্তনু নস্কর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: নদী ভাঙনের জেরে ফের চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে। বাসন্তীর হোগল নদী রাধাবল্লভপুর গ্রামে নদী বাঁধে প্রায় ১০০ মিটার এলাকা জুড়ে দেখা দিয়েছে এক ভয়াবহ ফাটল। আর এই ফাটলের গ্রাসে চলে গেছে এলাকার একের পর এক ঘরবাড়ি। স্থানীয় সূত্রে খবর, নদী ভাঙনের জেরে ইতিমধ্যেই প্রায় ১২টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদী গর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি ঘর ভেঙে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ওই সব বাড়ির বাসিন্দাদের। নিজেদের ভিটেমাটি হারিয়ে চরম অসহায় বোধ করছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ। খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে তাঁদের একটাই প্রশ্ন, ‘কোথায় যাব? যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই আমাদের!’
সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা গ্রামবাসীদের চোখে-মুখে ফুটে ওঠা এই নিরাশা ও কষ্টের ছবি ধরা পড়েছে এবিপি লাইভের ক্যামেরাতেও। এই বিধ্বংসী নদী ভাঙন ও বাঁধের বেহাল দশা নিয়ে ইতিপূর্বেই সরব হয়েছেন রাজনৈতিক নেতারা।
এদিকে, আসন্ন ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ নিয়ে এমনিতেই আশঙ্কার আবহ তৈরি হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায়। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় থেকে কিছুটা শক্তি হারিয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে ‘অর্ণব’। সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ কেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে প্রবেশ করেছে স্থলভাগে । মঙ্গলবার রাত ১.২৩ নাগাদ অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের মাঝ বরাবর শুরু হয় ‘অর্ণবে’র ল্যান্ডফলের প্রক্রিয়া। ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগে প্রবেশের সময় গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার। এর ফলে অন্ধ্রপ্রদেশ ও পুদুচেরিতে প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয় প্রবল বৃষ্টিপাত। ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার বেগে বইতে থাকে হাওয়া। ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে সমুদ্র। বিশালাকায় ঢেউয়ের ধাক্কায় বিচ এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় একাধিক জায়গা। উপড়ে পড়ে বহু গাছ, বিভিন্ন বিদ্যুতের খুঁটি। নাগাড়ে বৃষ্টির কারণে জল জমে যায় বিস্তীর্ণ এলাকায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় বহু ঘরবাড়ি। ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে অতিবৃষ্টির জেরে বুধবার ও বৃহস্পতিবার সমস্ত সকুল বন্ধ রাখার ঘোষণা করেছে ঝাড়খণ্ড সরকার।