সমীরণ পাল, গাইঘাটা: বারুইপুরের পুনরাবৃত্তি গাইঘাটায়। ‘ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এনকাউন্টারে মৃত্য়ু ধৃতের। ভোর রাতে ধৃত প্রহ্লাদ দাসকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়। পুণর্নির্মাণ করে ফেরার পথে পুলিশের রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে প্রহ্লাদ গুলি চালায় বলে দাবির। বলা হয়েছে, এর পাল্টা আত্মরক্ষায় পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বনগাঁ সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে, প্রহ্লাদকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। (Gaighata Encounter)
মঙ্গলবার ভোররাতে এই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভোররাতে প্রহ্লাদকে অপরাধস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছিল। সেখান থেকে ফেরার সময় আচমকা এক পুলিশ আধিকারিকের কাছ থেকে রিভলভার ছিনিয়ে নেয় প্রহ্লাদ। পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় সে। খালে লাফিয়ে পড়ে কোনও রকমে প্রাণে বাঁচেন এক পুলিশ আধিকারিক। এর পর আত্মরক্ষার্থে অন্য এক পুলিশ আধিকারিক কয়েক রাউন্ড গুলি চালান। তাতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে প্রহ্লাদ। পরে বনগাঁ সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। (Gaighata Assault Case)
আরও পড়ুন: SIR করতে কোন সফ্টওয়্যার ব্যবহার? নির্বাচন কমিশন বলল, ‘ট্রেড সিক্রেট’, নাম জানাল না
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন সকালে গাইঘাটা থানা এলাকায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। সেই ঘটনায় ধর্ষণ এবং খুনের অভিযোগ দায়ের করে মেয়েটির পরিবার। পরে প্রহ্লাদকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার ভোররাতে তাকে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আর সেখান থেকে ফেরার পথেই এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় প্রহ্লাদের। প্রহ্লাদের দেহের ময়নাতদন্ত হবে। তবে প্রহ্লাদ কয় রাউন্ড গুলি চালায়, পুলিশই বা কত রাউন্ড গুলি চালায়, তা স্পষ্ট নয় এখনও পর্যন্ত। (Gaighata Case)
গোটা ঘটনায় দু’দিন আগে বিবৃতি দেন বনগাঁ পুলিশ জেলার এসপি বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত। সেই সময় তিনি বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে খুন এবং ধর্ষণের ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। কিন্তু তদন্ত চলছে। মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। পরিবারের অভিযোগ, মেয়েটির সঙ্গে খারাপ কাজ করে খুন করা হয়েছে। মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। পোস্টমর্টেম হবে। সব দিক খতিয়ে দেখব আমার। আরও কেউ যুক্ত কি না দেখা হবে।”
শনিবার রাতে বান্ধবীদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিল নির্যাতিতা। তার পর আর বাড়ি ফেরেনি সে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি। পর দিন সকালে এক আত্মীয়ের বাড়ির পিছন দিকে, শৌচাগারের কাছ থেকে তার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে পরিবার। সেই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছিল প্রহ্লাদকে।
এর আগে, বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ এবং খুনের ঘটনাতেও একই ঘটনা ঘটে। সেবারও ধৃত প্রভাস মণ্ডলকে ঘটনা পুনর্নির্মাণ করতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেও পুলিশ জানায়, অফিসারের সার্ভিস রিভলবার ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে প্রভাস। পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় সে। এর পাল্টা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায় পুলিশ। তাতেই মারা যায় প্রভাস।