আলিপুরদুয়ার: বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গল ছেড়ে প্রতিবেশী রাজ্য অসমে পাড়ি দিয়েছে বাঘ। গত শুক্রবার কুমারগ্রাম হয়ে অসমের কোকরাঝাড় জেলার রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ করে বাঘটি। এই খবর সামনে আসতেই বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘের গতিবিধি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে বন দফতরের দাবি, বাঘটির উপর জিপিএস ট্র্যাকারের মাধ্যমে নজর রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ে অসমের বন দফতরের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: দীপাবলির কেনাকাটায় UPI করতে গেলে যদি বাড়তি টাকা চায় দোকান, কী করবেন?
জানা গিয়েছে, গত ২ অক্টোবর বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে একটি বাঘ এনে বক্সার গভীর জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল। বাঘটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য তার শরীরে জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের ব্যবস্থা-সহ কলার আইডি বসানো হয়েছিল। সেই প্রযুক্তির সাহায্যেই বাঘটির অবস্থান ও চলাফেরার উপর নজর রাখছিল বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার বাঘটি বক্সার জঙ্গল পেরিয়ে অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ করে বলে জানা গিয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর বক্সা বন দফতরের আধিকারিকরা অসমের বন দফতর এবং রাইমোনা জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বক্সার আধিকারিকরা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবরও নেন।
এই বিষয়ে রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাঘটির অসমে চলে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য, বাঘের চলাচলের কোনও নির্দিষ্ট সীমানা নেই। সীমানা মানুষের তৈরি। নতুন এলাকায় ছাড়া হলে বাঘ সাধারণত কিছু সময় ধরে নিজের বিচরণক্ষেত্র চিহ্নিত করে এবং পরে নির্দিষ্ট এলাকায় ফিরে আসতে পারে।
আরও পড়ুন: নবগ্রামে জাতীয় সড়কে পুলিশের তল্লাশি, উদ্ধার বিপুল মোবাইলের যন্ত্রাংশ, গ্রেফতার ২
মন্ত্রী জানান, ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি (NTCA)-র নির্দেশিকা মেনে বাঘটির গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে। অসম সরকারকেও সতর্ক করা হয়েছে। তবে বাঘটিকে ফিরিয়ে আনার জন্য কোনও রকম বলপ্রয়োগের পরিকল্পনা নেই। অযথা বিরক্ত না করে স্বাভাবিকভাবে তার চলাচলের উপর নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি, বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে ভবিষ্যতে আরও বাঘ আনার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন বনমন্ত্রী।