শান্তনু নস্কর, বাসন্তী: নিজের উপার্জন করা অর্থ তুলে দেননি স্বামীর হাতে, সেই ‘অপরাধে’ স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে বেধড়ক মার স্বামীর! আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্তমানে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্ত্রী! ঘটনাটি ঘটেছে বাসন্তী ব্লকের ৮ নম্বর গরান বোস (গরান্গঞ্জ) গ্রাম সংলগ্ন এলাকায়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
টাকা নিয়েই বিবাদ, আলাদা থাকছিলেন স্বামী-স্ত্রী
স্থানীয়রা জানিয়েছেন এবং পরিবারসূত্রে খবর, ৮ নম্বর গরান্গঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা নাজমা শেখ ও তাঁর স্বামী হাসান শেখ দুজনেই কর্মসূত্রে গড়িয়ার একটি দরজির (সেলাই) দোকানে কাজ করেন। দুজনেই আলাদা আলাদা উপার্জন করেন। কিন্তু প্রত্যেক মাসেই নাকি, স্বামী হাসান শেখ চাইতেন, স্ত্রী নিজের উপার্জন করা অর্থ তুলে দিন স্বামীর হাতে। কিন্তু নিজের উপার্জনের কষ্টার্জিত টাকা স্বামীর হাতে তুলে দিতে নারাজ ছিলেন নাজমা। এই নিয়ে দম্পতির মধ্যে অশান্তির সূত্রপাত। এই বিবাদের জেরেই নাকি দীর্ঘদিন ধরে আলাদা থাকছিলেন স্বামী ও স্ত্রী।
মাছ দেওয়ার নাম করে ডেকে নিয়ে গিয়ে, স্ত্রীকে বেধড়ক মার
অভিযোগ, গতকাল বিকেলে স্বামী হাসান শেখ ফোন করে স্ত্রীকে মাছ দেওয়ার বাহানায় ভরতগড় বাজারে ডাকেন। স্বামীর কথা সরল বিশ্বাসে মেনে নিয়ে, নাজমা শেখ বাজারে পৌঁছালে হাসান তাঁকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে দোতলার একটি ঘরের ভেতর নিয়ে গিয়ে নাজমার হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। এরপর হাসান হাতুড়ি দিয়ে নাজমার দুটি হাঁটুর ওপর এবং পিঠে পরপর বেধড়ক আঘাত করতে থাকে বলে অভিযোগ। বধূর আর্ত চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে বাসন্তী ব্লক গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাঁকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তিনি ক্যানিং হাসপাতালেই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। ঘটনার পর আক্রান্ত গৃহবধূর পরিবারের তরফে বাসন্তী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। পলাতক অভিযুক্ত স্বামীর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে বাসন্তী থানার পুলিশ।