
পুজোয় মুক্তি পেয়েছে সন্দীপ্তা সেন (Sandipta Sen) অভিনীত ‘বীরাঙ্গনা ২’ (Birangana 2)। পুজোর সময় বড়পর্দায় ৩টে ছবি মুক্তি পাওয়া সত্ত্বেও, মানুষ ‘বীরাঙ্গনা ২’ দেখেছেন, প্রশংসাও করেছেন। এখানেই শেষ নয়, ইতিমধ্যেই নেটফ্লিক্সের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে হইচই। ফলে নেটফ্লিক্সের পর্দাতেও এখন রয়েছে, ‘বীরাঙ্গনা’। ডাবিং করা এই সিরিজটির নাম সেই প্ল্যাটফর্মে, ‘ম্যাডাম সেনগুপ্ত’। অন্য ভাষাতেও প্রচুর মানুষ এই সিরিজটি দেখেছেন।

এবার পুজো কেমন কাটল সন্দীপ্তার? অভিনেত্রী বলছেন, ‘বাবা-মা, সৌম্য, বন্ধুরা.. সবার সঙ্গেই পুজোয় খুব ভাল সময় কেটেছে। তবে এবার পুজোর আগেই ‘বীরাঙ্গনা ২’ মুক্তি পেয়েছে। সেটা আমার কাছে খুব স্পেশাল। প্রচার নিয়ে তো ব্যস্ত ছিলাম বটেই, কিন্তু একটা টেনশনও কাজ করছিল।’

সন্দীপ্তা বলছেন, ‘প্রথম সিজনের থেকে দ্বিতীয় সিজনে সবসময়েই প্রত্যাশার চাপ থাকে একটা। কিন্তু মানুষ একেবারে প্রথম দিন থেকে ‘বীরাঙ্গনা ২’ দেখা শুরু করেছেন, নিজেদের প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। সত্যি বলতে, আমরা আপ্লুত।’

প্রশংসা পেয়েছেন অভিনয়ের জন্য, কিন্তু সন্দীপ্তার কাজের সবচেয়ে বড় সমালোচক কে? সন্দীপ্তা বলছেন, ‘আমার বাবা। সৌম্য, মা সবাই কাজের প্রশংসাই করেন। কিন্তু বাবার যদি কিছু কম ভাল লাগে, তাহলে মিষ্টি করে এসে সেটা আমায় বলেন। আমি ওটার অপেক্ষায় থাকি।’

সন্দীপ্তা আরও বলেছেন, ‘তবে ‘বীরাঙ্গনা ২’-কে বাবা ফুল মার্কস দিয়েছেন। আসলে আমার মনে হয়, বাবা আমায় অ্যাকশন করতে দেখতে, প্রতিবাদী চরিত্রে অভিনয় করতে দেখতে খুব ভালবাসেন। সেই দিকটায় বাবার একটা একচোখামি রয়েছে বলতে পারেন। এই সিরিজটারও খুব প্রশংসা করেছেন বাবা।’

বাংলার পাশাপাশি, গোটা দেশেই মুক্তি পেয়েছে ‘বীরাঙ্গনা’। বিভিন্ন প্রদেশের মানুষই এই সিরিজ দেখেছেন। বাইরে থেকে কাজের অফার আসলে, সেটাকেই প্রাধান্য দেবেন সন্দীপ্তা? অভিনেত্রী বলছেন, ‘সেটা আমি এখনও ভেবে দেখিনি। তবে এর আগেও আমি বাইরে কাজ করেছি। এই সিরিজ দেখে বাংলার বাইরে থেকেও বহু মানুষের প্রশংসার বার্তা পেয়েছি।’

‘বীরাঙ্গনা ২’-তে অনেকটাই অ্যাকশন সিকোয়েন্স রয়েছে, বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছিলেন সন্দীপ্তা? অভিনেত্রী বলছেন, ‘এই সিরিজে অভিনয়ের জন্য, পুলিশের আদব কায়দা শিখেছি। আর সমস্ত অ্যাকশন সিক্যুয়েন্স নিজেই করেছি। সবটা নিজে না করতে পারলে, আমার মনে হয় নিজের ১০০ শতাংশ দিয়ে অভিনয় করতে পারলাম না। এই সিরিজেরও সব দৃশ্যেই নিজে অ্যাকশন করেছি।’

সন্দীপ্তা বলছেন, ‘যখন ধারাবাহিক করতাম, তখনও আমায় এমন চরিত্রই দেওয়া হত, সেখানে আমি প্রতিবাদ করছি, নিজের মতামত রাখছি। আমি কাঁদলে, টিআরপি পড়ে যেত ধারাবাহিকের। তাই সেই চিত্রনাট্যেও আমায় বেশি কাঁদায়নি।’

সন্দীপ্তা বলছেন, ‘আমার তো মনে হয়, হিরোর পিছনে লুকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারব না। ওটা আমার দ্বারা হবে না, দমবন্ধ লাগে। যে চরিত্র আমায় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে, সেগুলোই আমায় সবচেয়ে বেশি টানে।’

চরিত্রের কোন বিষয়টা আলাদা করে আকর্ষণ করে সন্দীপ্তাকে? অভিনেত্রী বলছেন, ‘আমি সবসময় নিজেকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে চাই। দর্শক বিশ্বাস করেন, আমি সবরকম চরিত্রে অভিনয় করতে পারি। সব চরিত্রেই মানুষ আমায় ভালবাসা দিয়েছেন। নির্মাতারাও ভরসা করে আমায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্বাদের চরিত্র দিয়েছেন। এতেই আমি খুশি। ইতিমধ্যেই তো আগামী কাজের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছি।’ (প্রতিবেদন: তোর্ষা ভট্টাচার্য্য, ছবি: Hoichoi)
Published at : 25 Oct 2026 03:25 PM (IST)