কলকাতা: দীপাবলি ও কালীপুজোর আগে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব ধনতেরস। এই দিন সোনা, রুপো, বাসনপত্র-সহ বিভিন্ন শুভ সামগ্রী কেনার রীতি রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরসে নিয়ম মেনে পুজো ও কেনাকাটা করলে সংসারে সুখ, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য আসে। কিন্তু ২০২৬ সালে ধনতেরস কবে পালিত হবে, ৬ নভেম্বর নাকি ৭ নভেম্বর? কখন কেনাকাটা করবেন এবং পুজোর শুভ সময়ই বা কখন? জেনে নিন সম্পূর্ণ নির্ঘণ্ট।

ধনতেরস ২০২৬ কবে?

পঞ্জিকা অনুসারে, কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে ধনতেরস বা ধনত্রয়োদশী পালিত হয়। ২০২৬ সালে ৬ নভেম্বর, শুক্রবার ধনতেরস পালিত হবে। ত্রয়োদশী তিথি ৬ নভেম্বর সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে এবং ৭ নভেম্বর সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে শেষ হবে। তিথির সময় বিবেচনা করেই ৬ নভেম্বর ধনতেরস পালনের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

ধনতেরসে কেনাকাটার শুভ সময়

ধনতেরসে সোনা, রুপো ও নতুন সামগ্রী কেনাকে শুভ বলে মনে করা হয়। ২০২৬ সালের প্রকাশিত নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, কেনাকাটার শুভ সময় নিম্নরূপ।

শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ 

কেনাকাটার শুভ সময়- সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট

ধনতেরস পুজোর শুভ সময়- সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিট থেকে রাত ৮টা ১০ মিনিট

ধনতেরসে কী কী কেনা শুভ?
ধনতেরসে কয়েকটি বিশেষ সামগ্রী কেনার প্রচলন রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই জিনিসগুলি সংসারে সমৃদ্ধির প্রতীক।
– সোনা ও রুপো: গয়না, কয়েন বা অন্যান্য সামগ্রী।
– পিতল ও অন্যান্য ধাতুর বাসন: নতুন বাসনপত্র কেনার রীতি রয়েছে।
– ঝাঁটা: ঘর থেকে নেতিবাচকতা দূর করার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
– গোটা ধনে ও হলুদ কড়ি: পুজোর সামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
– লক্ষ্মী-গণেশের মূর্তি: বাড়িতে পুজোর জন্য কেনা হয়।
– নতুন গৃহস্থালির সামগ্রী: নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য জিনিসও কেনা যেতে পারে।

ধনতেরস পুজোর নিয়ম কী?

ধনতেরসের দিন সকালে স্নান করে পুজোর স্থান পরিষ্কার করুন। এরপর একটি পরিষ্কার চৌকির উপর লাল কাপড় বিছিয়ে ভগবান ধন্বন্তরি, কুবের এবং মা লক্ষ্মীর ছবি বা মূর্তি স্থাপন করতে পারেন।

পুজোর সময় ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে ফুল, ফল, মিষ্টি ও অন্যান্য উপকরণ নিবেদন করুন। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, দেবদেবীর উদ্দেশে প্রার্থনা ও মন্ত্রপাঠের পর আরতি করা হয়। অনেকে এই দিন সন্ধ্যায় বাড়ির প্রবেশদ্বারে প্রদীপ জ্বালান।

ধনতেরসের সঙ্গে ধনসম্পদ ও স্বাস্থ্য—দুইয়েরই যোগ রয়েছে। ধন্বন্তরিকে আয়ুর্বেদ ও আরোগ্যের দেবতা হিসেবে পুজো করা হয়। অন্যদিকে, মা লক্ষ্মী ও কুবেরের আরাধনা করা হয় সুখ-সমৃদ্ধির কামনায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *