কলকাতা: বাঙালির প্রাণের উৎসবে সমাপ্তির বাদ্যি – ‘ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ, ঠাকুর যাবে বিসর্জন’। তিথিমতে দশমী পড়তেই তাই বাজল বিদায়-ঘণ্টা। আজ বিচ্ছেদের দশমী। নিয়ম মেনে ছেলেমেয়ে নিয়ে বাপের বাড়ি থেকে কৈলাসে পাড়ি দেবেন উমা। আনন্দে উচ্ছ্বাসে মিশেছে বিষণ্ণতার সুর। সকাল থেকে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী-বরণ। ঘট বিসর্জনের পর সিঁদুরখেলা। গঙ্গার ঘাটে ঘাটে শুরু বিসর্জনের পালা। হাসি মুখে মাকে বিদায় জানিয়ে আরও একটা বছরের অপেক্ষা। তবে এই বছর চোরবাগানে যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গিয়েছে, তার কারণে কলকাতা থেকে জেলায় কড়া নিরাপত্তা জারি করা হয়েছে। আজ কলকাতা-সহ রাজ্যের ৪ জায়গায় বিসর্জন প্রক্রিয়ার তদারকিতে থাকবেন, ১৮ জন IPS।
বিসর্জনের আগে, ঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী
আজ বাবুঘাটে এসে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোয় চোরবাগান সর্বজনীনে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ গিয়েছে ১৯ জনের। সেই ঘটনার যাতে আর পুনরাবৃত্তি না হয়, কোনোরকম দুর্ঘটনা ছাড়াই যাতে সুস্থভাবে দেবীর বরণ এবং ভাসান সম্পন্ন হতে পারে, সেই কারণে কলকাতা থেকে জেলায় আরও জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আজ থেকে কলকাতার ঘাটে ঘাটে থাকবেন ১২ জন IPS। হাওড়ায় ২ জন, ব্যারাকপুরে ২ জন ও চন্দননগরে ২ IPS-কে দায়িত্বে রাখা হয়েছে।
প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য এবার নিমতলায় ৯টা ট্রলি রাখা হয়েছে। বাবুঘাটে রাখা হয়েছে ১২ টা ট্রলি। ভাসানের ব্যবস্থাপনায় ৩০০ জন কুলিকে রাখা হয়েছে। সমস্ত ব্যবস্থা আজ নিজে খতিয়ে দেখেন শুভেন্দু অধিকারী। বিসর্জনের ঘাটে রয়েছে NDRF-এর টিম। প্রতিমা নিরঞ্জনের পরে সঙ্গে সঙ্গে যাতে কাঠামো সরিয়ে ফেলা হয়, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘাটগুলিতে লাগানো হয়েছে পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম। আজ প্রতিমা বিসর্জন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাবুঘাটে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে। এদিন বাবুঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার পরে, জলপথেও ঘাটগুলি ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু ঘাটে নয়, জলপথেও টহল দেবে নিরাপত্তারক্ষীরা। এদিন পুলিশ এবং NDRF-এর সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। আগে এই কাজগুলি রাজ্য সরকার এবং পুলিশ সামলালেও, বাড়িত সতর্কতার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে NDRF।