নয়াদিল্লি: দিন দু’য়েক আগে, রবিবার জুহু এলাকায় বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের (Tiger Shroff firing) গাড়িতে বাইকে চেপে তিন দুষ্কৃতি এসে হামলা চালায়। অভিনেতার গাড়িচালক সহ, আরও দুইজনের গুলি লাগে। এই ঘটনায় পুলিশের তরফে তদন্ত এবং দ্রুত অ্যাকশন চলছেই। আগেই তিনজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এবার সমীর নামক আরেক ব্যক্তিকে হরিয়ানা পুলিশ গ্রেফতার করল। হরিয়ানার সোনিপথ থেকে পুলিশ এই সমীর নামক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে।
অনিল পণ্ডিত নামে এক ব্যক্তি টাইগার শ্রফের উপর হামলার দায় স্বীকার করেছে। এই ব্যক্তি নিজেকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং-এর (Lawrence Bishnoi gang) সদস্য বলে দাবি করেছে। যদিও পুলিশের তরফে এই ঘটনায় এখনও অনিলের যোগাযোগ নিশ্চিত করেনি। তবে দাবি করা হচ্ছে অনিলের সঙ্গে তিন শ্যুটার রেহান, ফুল সিং এবং হৃতিক কুমারের যোগাযোগ করিয়ে দেন এই সমীর। রেহনা ও ফুল সিংয়ের মতো তিনিও সোনিপথেরই বাসিন্দা। India Today-র রিপোর্ট অনুযায়ী ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকা অনিলের সঙ্গে এই তিন ব্যক্তির সংযোগ সাধন করান সমীর।
শোনা যাচ্ছে রেহানকে নাকি মাত্র ৩৫ হাজার টাকা এবং বিদেশে থাকার বন্দোবস্ত করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এই ঘটনার সুপারি দেন। রেহানের অতীতে ক্রিমিনাল রেকর্ড রয়েছে। রেহান ও ফুল সিং এর আগে অমৃতসরের, পাঞ্জাবে এক ব্যবসায়ীকে শ্যুট করার পরিকল্পনা করেছিল। তবে তাদের বন্দুক থেকে সঠিক সময়ে ফায়ার হয়নি।
রিপোর্টে বলা হচ্ছে এই রেহান ও ফুলকেই টাইগারকে গুলি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা প্রায় মাসখানেক মুম্বইয়ে ছিল। সেখানেই তারা হৃতিকের সঙ্গে দেখা করে, যেই হৃতিকের মুম্বইয়ের অলগলি নিজের হাতের তালুর মতে চেনে। হৃতিককেও ভাল চাকরি এবং বিদেশে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভন দেওয়া হয় বলে দাবি করা হচ্ছে।
বলা হচ্ছে অনিল এই ব্যক্তিদের অনলাইনের মাধ্যমে খরচ, খরচার টাকা জোগান দিতেন। তারা একটি স্থানীয় দোকানে টাকা অর্ডার করত এবং সেখান থেকে টাকা তুলত। তাদেরকে সরাসরি অস্ত্রও দেওয়া হয়নি। পরবির্তে এক জায়গায় সেই অস্ত্রগুলি রেখে দেওয়া হয় এবং সেটি পরবর্তীতে সেখান থেকে শ্যুটাররা নিয়ে নেন। পুলিশের অনুমান অনিল পণ্ডিত বাকিদের সঙ্গে কথা বলার জন্য জাগ্গি নামক অ্যাপের ব্যবহার করে। এই অ্যাপে ইউজ়ার ভেরিফাই করার প্রয়োজন পড়ে না। উপরন্তু পুলিশের সন্দেহ যে মুম্বইের নানা ব্যক্তিদের সঙ্গে এই গ্রুপের পরিচিতি ছিল। পুলিশ এখনও এই অভিযুক্তদের বিষয়ে আরও তথ্য জোগাড় করে গোটা বিষয়টা খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।