কলকাতা: দিকে দিকে নিশানায় বামেদের বুক স্টল। বিরোধীদের সমালোচনা তো বটেই, এবার বামেদের স্টল ভাঙচুর নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য শোনা গেল বিজেপিরই মন্ত্রিসভার সদস্য স্বপন দাশগুপ্তের গলায়। তিনি বলছেন, ‘এই ধরনের অসভ্যতামি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। এরা বিজেপিকে, রাজ্যের সরকারকে বদনাম করছে।’
পাল্টা সিপিএম কটাক্ষ করে বলছে, শারদোৎসবকে অশান্তির আবহে বিষিয়ে দিতে চাইছে বিজেপি এবং তার বশংবদ বাহিনী।
রাজ্যের অর্থমন্ত্রী ও বিজেপি বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত বলেছেন, ‘এই ধরনের অসভ্যতামি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। এতো গুন্ডামি হচ্ছে। গেরুয়া পরে গুন্ডামি।’
সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, ‘বই ছিঁড়ছে, বই পোড়াচ্ছে, বই রাস্তায় ফেলছে। কোন অপগণ্ড এরা? শারদোৎসবকে অশান্তির আবহে বিষিয়ে দিতে চাইছে বিজেপি এবং তার এই বশংবদ একটা বাহিনী।’
পুজো মণ্ডপ থেকে কয়েক হাত দূরে। কাঠের কাঠামো… লাল প্য়ান্ডেল… লাল পতাকা… আর ছড়ানো ছেটানো বই…। পুজোয় সিপিএমের বুক স্টল। বিগত কয়েক দশক ধরে এই রাজ্য়ের পরিচিত ছবি। কিন্তু, এইবার, বিজেপি সরকারের আমলে এই স্টল ঘিরেই চড়ছে রাজনীতির পারদ।
দিকে দিকে সিপিএমের বুক স্টলে হামলা, ভাঙচুর। আর এই আবহে, ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য় শোনা গেল বিজেপি সরকারের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তর গলায়।
স্বপন দাশগুপ্ত বলছেন, ‘এই জিনিসগুলো আমি কোনওভাবেই সমর্থন করতে পারি না। আমাদের রাজ্য়ের ছবিটা খুব একটা কালি লাগাল। আমার মনে হয় না, এটা কোনওভাবেই, এটা একটা আমি লজ্জিত জানেন, কেন, এটা আরও লজ্জিত কেন, যারা করছে, তারা আমাদের দলের নামে করছে। এরা কে? এদের কে দায়িত্ব দিয়েছে এটা করার? এরা আমাদের পার্টিকে, আমাদের সরকারকে বদনাম করছে।’
সুজন চক্রবর্তী পাল্টা বলেছেন, ‘তাদের এই বিলাপের তো কোনও মানে নেই। মুখ্যমন্ত্রী করছেন তো। মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বাহিনী করাচ্ছেন তো।’
শনিবার সন্ধেয়, যাদবপুরের এইট বি-তে, সিপিএম-এর বুকস্টল ঘিরে, তুমুল অশান্তি শুরু হয়। আনা হয় বুলডোজার। এই প্রসঙ্গে, তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য় শোনা গেল বিজেপির রাজ্য় সভাপতির মুখে!
রাজ্য় বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘কোনও রাজনৈতিক দল স্টল দিতে পারে। যে কোনও জায়গায় দিতে পারে, অনুমতি সাপেক্ষ। এটা তাদের অধিকারের মধ্য়ে পড়ে। বুলডোজার নিয়ে চলে যাচ্ছে, এটাকে সমর্থন করব এটা কল্পনা করাও পাপ। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে কোনও বিজেপি কর্মী যদি যুক্ত থাকে, আমরা তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের ব্য়বস্থা নেব।’
স্বপন দাশগুপ্ত বলেছেন, ‘শমীক বাবু তো বলেইছেন। বার্তাটা তাদের একটাই থাকবে যে এই ধরনের জিনিস আমরা সমর্থন করি না।
কোন জায়গায় শুনেছি বুলডোজার নিয়ে এসেছে। তার সঙ্গে গার্বেজ ট্রাক, মানে ময়লা সংগ্রহ করার ট্রাক। কে চেক করছে? এই ধরনের অসভ্যতামি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যায় না।’
তাঁদের স্টল ভাঙার জন্য় বিজেপিকেই যখন দায়ী করছে সিপিএম… তখন বিজেপির শীর্ষ নেতাদের এই মন্তব্য়! যা নিয়ে পাল্টা কটাক্ষ করেছে বামেরা। সুজন চক্রবর্তীর কথায়, ‘গোটা দেশের কাছে বাংলার মাথা হেঁট হয়েছে। সেখানে বই-এর স্টল ভাঙা যায়, পোড়ানো যায়। শরৎচন্দ্রের নাম তাঁরা জানে না। সেই বই তুলছে, ছুড়ছে, তাই নিয়ে লাফালাফি খেলছে। যদি মনে করেন যে অপরাধ হচ্ছে, ডবল ইঞ্জিন সরকার। বলুন। দিল্লিতে নেতাদেরকে বলুন। ইনিও বিজেপি, সরকার যারা চালাচ্ছে, তারাও নাকি বিজেপি। কে কার মুখ আর কে কার মুখোশ বলতে পারব না।’
এরইমধ্য়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য় শোনা গেল স্বপন দাশগুপ্তর মুখে! বললেন, ‘মে-র ৪ তারিখের পর থেকে অনেক ধরনের লোকেরা বিজেপি বা হিন্দুত্বের নামে ঢুকে পড়েছে। একটা ফিল্টারেশন প্ল্যান্ট লাগাতে হবে, এতটাই বেশি হয়ে গেছে। এরা কোথাকার আমি জানি না।’
সব মিলিয়ে, সিপিএমের বুক স্টল ভাঙচুর ঘিরে, পুজোর মধ্য়েও তেতে উঠেছে রাজনীতি।