কলকাতা : চোরবাগান সর্বজনীনে ঠাকুর দেখতে গিয়ে হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল ১ শিশু-সহ ১৯ জনের! কীভাবে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল? দায় নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনীতি। এই রাজনৈতিক আকচাআকচি তো চলবেই। কিন্তু কেমন আছেন চোরবাগানের ঘটনায় আহতরা ?
চোরবাগানে পদপিষ্টের ঘটনায় অ্য়াপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৪ জন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাদের প্রত্য়েকের অবস্থা স্থিতিশীল। সোমবার ৬ জনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মেডিক্য়াল রিপোর্ট যাচাই করার পর এনিয়ে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেবেন বলে সূত্রের খবর।
শনিবার সন্ধেয় চোরবাগানের সর্বজনীনের পুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্য়ু হয়েছে ১৯ জনের। আহত হয়েছিলেন ২৫ জন। তাদের মধ্য়ে ১৪ জন ভর্তি রয়েছেন অ্য়াপোলো হাসপাতালে। এদের মধ্য়ে ৩ জন আইসিইউ ও ৩ জন এইচডিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চোরবাগানে বিপর্যয়ের পর আহতদের নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতা মেডিক্য়াল কলেজে। সেখানকার জুনিয়র চিকিৎসকরা শনিবার রাতেই জানান, জখম অনেককেই কলকাতা মেডিক্য়াল কলেজে ভর্তি করার পরই, অ্য়াপোলো হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার তোড়জোড় শুরু করে দেওয়া হয়। জুনিয়র ডাক্তাররা জানাচ্ছেন, ‘ ভর্তি হওয়ার যে কাগজপত্র সরকারি হাসপাতালে সেগুলো তৈরি হয়ে গেছিল। আমাদের কাছে নির্দেশ এল একেবারে উপরমহল থেকে অর্থাৎ স্বাস্থ্যভবন হয়ে MSVP হয়ে, বিভাগীয় প্রধানদের তরফ থেকে আমাদের কাছে যে নির্দেশ এল যে রোগীর আত্মীয়দের কাছে একটা অপশন রাখা হোক যে তারা কি তাঁদের রোগীর যে দ্রুত চিকিৎসা সেটা কি তাঁরা অ্য়াপোলোর মতো যে বড় বড় কর্পোরেট, প্রাইভেট যে হাসপাতাল সংস্থা সেখানে করাতে চায়? ‘
অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানান, আহত অবস্থায় যারা এসেছে তারা সবাই এখানে ভর্তি করা হয়েছিল। তারপরে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন যে তারা কী চায় সেটা দেখে নিন। তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী যেগুলো ব্যবস্থাপনা নেওয়ার রাজ্য সরকার নিয়েছে।
কলকাতা মেডিক্য়াল কলেজ। যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী আসেন। সেখানে পদপিষ্ট হয়ে আসা রোগীদের চিকিৎসার পরিকাঠামো থাকবে না কেন? কেন তাঁদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠাতে হবে? এই প্রশ্নের আবহেই পরিকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন কলকাতা মেডিক্য়াল কলেজের জুনিয়র চিকিৎসকরা।
রবিবার আহতদের দেখতে অ্য়াপোলোতে যান স্বাস্থ্য কমিশনের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ বসু। সকালেই আহতদের দেখতে অ্য়াপেলো হাসপাতালে যান রাজ্য়পাল RN রবি।