কলকাতা: গ্রেফতারির প্রায় ২ বছরের মাথায় জামিন পেয়েছেন, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। যা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন চিকিৎসকদের একাংশ। ফের রাস্তায় নামার ডাক দিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন।
চিকিৎসক ও আন্দোলনকারী অনিকেত মাহাতো বলছেন, ‘অত্য়ন্ত লজ্জার দিন বলে মনে করি।’ চিকিৎসক ও অভয়া মঞ্চের সদস্য় তমোনাশ চৌধুরী বলছেন, ‘আমরা হতাশ। আবার রাস্তায় নামতেে হবে।’
রাত দখল … ডাক্তারদের মিছিল… শিরদাঁড়া হাতে মিছিল … অনশন মঞ্চ …। অভয়ার মর্মান্তিক পরিণতি নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা রাজ্য়কে! গোটা দেশকে। শোক। শোক থেকে ক্ষোভ। ক্ষোভ থেকে প্রতিবাদ। প্রতিবাদের আগুন। তারপর তা দাবানলের চেহারা নেয়।
কলকাতার পুলিশ কমিশনারের ইস্তফা চেয়ে জুনিয়র ডাক্তারদের লালবাজার মিছিল… শিরদাঁড়া হাতে পদযাত্রা.. সল্টলেক স্বাস্থ্য় ভবনের সামনে জুনিয়র ডাক্তারদের অনির্দ্দিষ্টকালের জন্য় অবস্থান। অনশন…। নবান্নে তৎকালীন মুখ্য়মন্ত্রীর সঙ্গে জুনিয়র ডাক্তারদের বৈঠক..। কী দেখেনি এই রাজ্য়!
কিন্তু, ঘটনার ২ বছরের মাথায় জামিনে মুক্ত, অন্য়তম অভিযুক্ত, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের সদস্য, চিকিৎসক কিঞ্জল নন্দ বলছেন, ‘এখনও পর্যন্ত ওঁরা কোনও প্রমাণ জোগাড় করতে পারলেন না। কেন পারলেন না, তার উত্তর জানা নেই। সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘ আলোচনা চলেছে, অনেক আইজীবীদের অনেকরকম আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তারও কোনও সুরাহা হয়নি। আমাদের সাধারণ মানুষদের অধিকার বা বিচার কিন্তু বিশ বাঁও জলে।’
অ্য়াসোসিয়েশন অফ হেল্থ সার্ভিস ডক্টর্সের সাধারণ সম্পাদক উৎপল বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেছেন, ‘এই রাজ্যে যখন পালাবদল ঘটে, নতুন যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা অঙ্গীকার করেছিল অভয়ার ন্যায়বিচার দেবে। সিবিআইয়ের সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্ব ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করায় যদি জামিন পেয়ে যায়, তার বাবা-মায়ের যদি মনে হয় বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে, এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত হতাশার, দুঃখের।’
অনিকেত মাহাতো বলেছেন, ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার, যারা পশ্চিমবাংলার বুকে স্বাস্থ্য় দুর্নীতিকে সম্পূর্ণরূপে তুলে ফেলার প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসেছিল, অভয়ার ন্য়ায়বিচারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার কথা বলেছিল, বিগত ৫ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর, ৩ IPS-কে সাসপেন্ড করার পর, এখনও তাদের ক্ষেত্রে কোনও প্রাথমিক রিপোর্ট আমরা দেখতে পাইনি।’
আর জি কর মামলার শুরু থেকেই বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে সন্দীপ ঘোষের ভূমিকা। ২০২৪-এর ২২ অগাস্ট সুপ্রিম কোর্টের শুনানির সময়, প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ঘটনার পর পরই কেন কলেজ কর্তৃপক্ষ FIR করেনি? অধ্যক্ষেরই তো অবিলম্বে FIR করা উচিত ছিল। কিন্তু তিনি তা করেননি কেন? ওই সময় অধ্যক্ষের সঙ্গে কে যোগাযোগে ছিলেন?
চিকিৎসক তমোনাশ চৌধুরী বলছেন, ‘সন্দীপ ঘোষ জামিন পেলেন। ২ বছর পেরিয়ে গেল। CBI কী করল? স্বাস্থ্য় ব্য়বস্থার পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি এবং সেই দুর্নীতির কারণে অভয়া হত্য়া তা তো আদালতের সামনে এলই না।’
ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরামের সভাপতি, চিকিৎসক কৌশিক চাকি বলেছেন, ‘আমাদের আশঙ্কা, এবার হয়তো তাঁর (সন্দীপ ঘোষ) সরাসরি সরকারি চাকরিতে পুনর্বহাল, মেডিক্য়াল রেজিস্ট্রেশন ফিরিয়ে দেওয়া এমনকী পুরনো ক্ষমতার আসনে বসানোর চেষ্টাও শুরু হবে।’
সন্দীপ ঘোষের জামিনের বিরুদ্ধে, ২৬ অক্টোবর দুপুর ৩টেয় আন্দোলনের ডাক দিয়েছে IMA কল্য়াণী ও IMA আরামবাগ।
আরও পড়ুন: অভিমন্যুর হাফসেঞ্চুরি, রঞ্জিতে সারাদিনে পড়ল ১৫ উইকেট, বাংলা vs সার্ভিসেস ম্যাচের আপডেট