কলকাতা: ঠাকুর দেখতে গিয়ে প্রাণ চলে গিয়েছে ১৯ জনের। উৎসব বদলে গিয়েছে বিভীষিকায়। সরকারের তরফে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা হয়েছে। আশ্বাস দেওয়া হয়েছে পাশে থাকার। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হাহাকার ছাড়া এই মুহূর্তে আর কিছু শোনা যাচ্ছে না। যতই সাহায্য়ের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হোক, যতই আশ্বাস দেওয়া হোক, এই ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয় বলছেন সকলেই। (Chorbagan Stampede Deaths)
শনিবার সন্ধেয় চোরবাগান সর্বজনীনে ঠাকুর দেখতে গিয়ে, পদপিষ্ট হয়ে মারা গিয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহির একই পরিবারের তিন জন। শোকাহত পরিবার এখনও আঘাত কাটিয়ে উঠতে পারছে না। মৃতার স্বামী জানিয়েছেন, তাঁরা ন’জন মিলে ঠাকুর দেখতে এসেছিলেন। বালিতে ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন ঠাকুর দেখার জন্যই। রাত ৮টা নাগাদ প্যান্ডেলে ঢোকেন তাঁরা। সেই সময় বৃষ্টি পড়ছিল। দড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন ভলান্টিয়াররা। সকলকে ফিরে এসে দড়ি ধরতে বলে ঘোষণাও হচ্ছিল মাইকে। ভিতরে সব ঠিকই ছিল। কিন্তু বোরনোর সময় সমস্যা হয়। (Chorbagan Stampede Incident)
ওই ব্যক্তি বলেন, “চার-পাঁ হাত দূরে…গেট দিয়ে বেরিয়ে যাব। দেখতে পাচ্ছি গেটটা। বাঁচাও বাঁচাও করে চিৎকার করছি। কেউ নেই যে বাঁচাবে। সব নীচে পড়ে গিয়েছে। পিছন থেকে চাপ, সামনে থেকে চাপ। হার্টফেল করেছে। আমিও মরে যেতাম। ছেলে কাঁধে ছিল। ১৪ বছরের ভাগ্নে। সব ওখানেই হার্টফেল করেছে। কেউ বাঁচাতে আসেনি। প্যান্ডেল যখন ভাঙা হল, তার পর বেরোতে পেরেছি আমরা। সাইডটা ভেঙে বের করতে হয়েছে। শ্বাস নিতে পারছিলাম না আমি। আর এক ভাগ্নে বেরিয়ে গিয়েছিল। কোনও ভাবে তাকে ছেলে ধরিয়ে দিই। কেউ বেরোতে পারছিল না। আমার বড়দি, ভাগ্নেও মারা গিয়েছে।”
পরিবারের অন্য এক সদস্য বলেন, “চোরবাগানের মতো এত বড় পুজো, যেখানে এত লোক আসেন, সেখানে পুলিশ নেই কেন?” তৃতীয় একজন জানান, মন্ত্রীর এসে কথা বলে গিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু তাঁদের যা গিয়েছে ফিরে পাওয়ার নয়। তাঁর বক্তব্য, “মন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। বললেন, আশ্বাস দিলেন। ক্ষমাপ্রার্থনা করলেন। বললেন, ‘যা হয়ে গিয়েছে, তা তো আর ফেরত দিতে পারব না, যেটুকু সাহায্য় করা যায়’।”
চোরবাগান বিপর্যয়ের পর নয় IPS অফিসারকে কলকাতা আনা হয়েছে। আগে পুজো সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁদের। রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন দফতর থেকে আনা হয়েছে তাঁদের। তালিকায় IPS মিরাজ খালিদ, IPS সুমনজিৎ রায়, IPS মেহমুদ আখতার, তালিকায় IPS রূপেশ কুমার, IPS শুভঙ্কর ভট্টাচার্য, IPS তরুণ হালদার, তালিকায় IPS সৌম্য রায়, IPS প্রিয়ব্রত রায়, IPS দীপক সরকার।