কলকাতা: গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য মহিলা সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সাবিনা ইয়াসমিন(Sabina Yasmin)। শারীরিক ও পারিবারিক সমস্যার কারণ দেখিয়ে দলের রাজ্য সভাপতি বিপ্লব মিত্রকে পদত্যাগ পত্র পাঠিয়েছেন তিনি। তবে দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিলেও, কর্মী হিসাবে কাজ করে যাওয়ার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন সাবিনা ইয়াসমিন। এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যাওয়ায় ১০ বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের জন্য সুপ্রিম কোর্টে যায় মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। পাশাপাশি দলের তরফে বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছেও লিখিতভাবে একই আবেদন জানান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে যে ১০ জন বিধায়কের কাছে বিধানসভার সচিবালয়ের নোটিস পৌঁছয় সেই তালিকায় রয়েছে মোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিনের নাম। এবিষয়ে তাঁর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছেনস সময়ের অভাবেই গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য মহিলা সভাপতি পদ ছেড়েছেন তিনি।
জানা গিয়েছে যে সাবিনা ইয়াসমিন তাঁর দলের রাজ্য সভাপতিকে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি জানিয়েছেন যে পারিবারিক ও শারীরিক কারণে এই ইস্তফা দিয়েছেন। তবে দলের কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করবেন তিনি। তবে সাবিনা ইয়াসমিন এখনও পর্যন্ত কোনও বক্তব্য রাখেননি। এটা কিন্তু গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য একটা বিরাট ধাক্কা বলা যেতে পারে। ব্যক্তিগত কারণে দলের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারছেন না তিনি, এমনটা জানিয়েছেন সাবিনা দলের রাজ্য সভাপতিকে। সাধরণ কর্মী হিসেবে দলের কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন সাবিনা।
উল্লেখ্য, মোথাবাড়িকাণ্ডে সুজাপুরের বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিনকে তলব করেছিল NIA। বিধানসভা ভোটের আগে SIR-এর কাজ করতে গিয়ে, মালদার মোথাবাড়িতে হামলার মুখে পড়তে হয়েছিল খোদ বিচারকদের। সেই ঘটনায় এবার, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা NIA তলব করল সুজাপুরের বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিনকে। মোথাবাড়িতে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে SIR-এর কাজে আসা বিচারকরা! তাঁদের BDO অফিসে আটকে রাখা হয়েছিল। মাঝরাতে কোনওমতে বেরোতে পারলেও, রাস্তায় তাঁদের গাড়িতে হামলা চালানো হয়। স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করে সুপ্রিম কোর্ট। সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করে, NIA-কে তদন্তভার দেয় সর্বোচ্চ আদালত। মোথাবাড়িকাণ্ডে আগেই জড়িয়ে গিয়েছিল সাবিনা ইয়াসমিনের নাম। ঘটনার সময় তিনি মোথাবাড়ির তৃণমূল বিধায়ক ছিলেন। ভোটে হারের পর মমতা তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন সাবিনা।