তোর্ষা ভট্টাচার্য্য, কলকাতা: সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের (Srijit Mukherjee) চিত্রনাট্যকে তিনি বিশ্বাস করেন অন্ধভাবে। আর তাই, ‘টলিউডের ফার্স্ট বয়’-এর কাছ থেকে কোনও চিত্রনাট্য এলে, তিনি সেটা না পড়েই, রাজি হয়ে যান। সেই সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের কল্পনাতেই, টোটা রায়চৌধুরী (Tota Roy Choudhury) এবার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। পুজোয় মুক্তি পাচ্ছে, নন্দী মুভিজ় প্রযোজিত নতুন সিনেমা, , ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ (Emperor vs Sarat Chandra)। এই ছবিরই নামভূমিকায় অভিনয় করছেন, টোটা। 

সৃজিতের ফোন পেয়ে, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখেছিলেন টোটা!

সৃজিতের হাত ধরেই, ফেলুদা হওয়ার স্বপ্নপূরণ হয়েছিল টোটার। আর এবার তিনি শরৎচন্দ্রের ভূমিকায়। সিনেমার অফার পেয়ে কেমন লেগেছিল? টোটা বলছেন, ‘প্রথমে সৃজিতের ফোন পেয়ে অবাক.. অবাকও নয়, বলা ভাল স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। ও আমায় ফোন করে বলেছিল, “তুমি কি জানো, আমার সঙ্গে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মুখের মিল রয়েছে?” আমি বুঝতেই পারিনি সৃজিত ঠিক কী বলতে চাইছে! ৫ সেকেন্ড কথা বলতে পারিনি। তারপরে বললাম, “কী বলছো বলো তো?” তখন ও আমায় ছবির বিষয়ে বিস্তারিত বলে। আমি বলেছিলাম, আমি নিজেকে দেখতে পাচ্ছি না ওই চরিত্রে। কিন্তু সৃজিত ভরসা দিয়েছিল। ওর ফোন ছাড়ার পরে, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে অনেকক্ষণ দেখেছিলাম। তারপরে সৃজিতের সঙ্গে কথা বলতে গেলাম। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ওপর আমার ভরসা রয়েছে যে, ও আমায় ফোন করেছে মানেই কিছু ভেবেই ফোন করেছে। সৃজিতের সিনেমা আমি কোনোদিন ফেরাইনি। আমি জানি সৃজিত ভাল কাজ না থাকলে, আমায় ফোন করবে না। রাজি হওয়ার পরে ব্রিফ পেয়েছি, ওর সঙ্গে বসেছি বার বার। সৃজিত আমায় বুঝিয়েছে, সাহায্য করেছে।’

‘কঠিনতম পুজো’, কেন বললেন টোটা রায়চৌধুরী?

পুজোয় টোটার ছবি মুক্তি পাচ্ছে। তবে পাশাপাশি যে ছবিগুলি মুক্তি পাচ্ছে, সেগুলোও যথেষ্ট আলোচিত। এই প্রতিযোগিতা কি টোটার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে? নায়ক বলছেন, ‘একজন অভিনেতা হিসেবে দায়িত্ব থাকে যে, প্রযোজক যে টাকা ছবিতে লগ্নি করেছেন, তাঁকে যদি সেটা ফেরত দেওয়া যেতে পারে। তবে আমার মনে হয়, এই বছরের পুজো কঠিনতম। এবার পুজোয় যে ছবিগুলো মুক্তি পাচ্ছে, প্রত্যেকটা খুব ভাল সিনেমা। প্রত্যেকটা বড় মাপের, তারকা সমৃদ্ধ ছবি। বিষয় বৈচিত্র্যও রয়েছে। দর্শকের কাছেই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং যে, কোন ছবিটা ফেলে কোন ছবিটা দেখবে। তবে দর্শক যদি সবকটা ছবিই দেখেন, খুশি হব। আমার ছবিটা দেখলে একটু বেশি খুশি হব। ‘বহুরূপী’ ভাল ছবি হবে। মানুষ হল ভরিয়ে একেনের ছবি দেখেছেন। দেব-শুভশ্রীকে নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই, ওদের অনুরাগী সংখ্যা প্রচুর। টিজারগুলো ভীষণ ভাল লেগেছে। আমি দেবকেও জানিয়েছি। তবে আমাদের ছবি শিকড়ের ছবি। আর বাঙালির কাছে তো পুজো মানেই শিকড়ে ফেরা। আমার বিশ্বাস বাঙালি আমাদের ছবিটাও দেখবেন।

 

আরও পড়ুন : Abir Chatterjee: ‘বহুরূপী-২’ এর অফার ফিরিয়েছিলেন আবির চট্টোপাধ্যায়? ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে কী মতামত নায়কের?



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *