কলকাতা: মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষোভ ও থানায় ডেপুটেশন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় মুকুন্দপুরে। ধাক্কাধাক্কি, ধস্তাধস্তি, ভাঙল গাড়ির কাচ, ইটবৃষ্টি, ডিমবৃষ্টি বাদ গেল না কিছুই। মেরে মুখ ফাটিয়ে দেওয়া হল প্রাক্তন IPS অফিসার ও মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের হুমায়ুন কবীরের। তৃণমূলের আইটি সেলের ইনচার্জ উপাসনা চৌধুরীকে মারধরের অভিযোগ উঠল। ভাঙল তাঁর গাড়ির কাচ। পাল্টা মারধরের অভিযোগে সরব হয়েছে বিজেপি। মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরাই প্ররোচনা দেন। তাদের একাধিক কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে বিজেপি। মুখ খোলেন শর্বরী মুখোপাধ্যায়ও।
দফায় দফায় হামলা। দফায় দফায় মারপিট দুই শিবিরের মধ্য়ে। তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ, তাদের এই ডেপুটেশন কর্মসূচিতে তারা যখন মিছিল করে থানার দিকে যাচ্ছেন তখন প্রথমে তাদের মিছিলে হামলা চালায় বিজেপি সমর্থকরা। বিজেপির পাল্টা অভিযোগ প্ররোচনা এসেছিল ওই মিছিল থেকেই। মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্য়ায় বলেন,”১০৯ নম্বর ওয়ার্ডে আমাদের কর্মীদেরকে মারা হচ্ছে। আক্রমণ করা হচ্ছে। বাড়িতে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। আজকে উপাসনা চৌধুরীর নেতৃত্বে আর প্রিয়াঙ্কা অধিকারীর নেতৃত্বে এখানে একটা ডেপুটেশনে ওরা আসছিল। রাজ্য়ের মুখ্য়মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, কোথায় নারীর সম্মান? কেন মারা হল উপাসনা চৌধুরীকে? কেন প্রিয়াঙ্কাকে মারা হল?”
মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস-এর আইটি সেলের ইনচার্জ উপাসনা চৌধুরী বলেন, ”পুলিশের সামনে বিজেপির নেতা কর্মীরা বলছে যে এদেরকে চিরে দেব। পুলিশকে আমরা বারবার করজোড়ে বলছি, যে আপনারা আপনাদের কাজটা করুন, বড় সাহেব সরকারে যিনি বসে আছেন, ওঁর কথাটাই শুনছেন।”
ঘটনাস্থলে প্রাক্তন IPS অফিসার ও মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা হুমায়ুন কবীর এলে প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েন। প্রথমে ধাক্কাধাক্কি তারপর একেবারে ঘিরে ধরে চুল টেনে, মারা হয় চড়, কিল, ঘুষি। মুখ ফাটিয়ে দেওয়া হয় তাঁর। রক্তাক্ত অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে থানার ভিতরে ছুটে যান। কোনওরকমে হাসপাতালে নিয়ে যায়। যদিও এই ঘটনা নিয়ে অন্য সুর বিজেপির। বিজেপির যাদবপুর (৪)-এর মণ্ডল সভাপতি সজল রায় বলেন, ”এই জমায়েতের মধ্য়ে দেখলাম এই অঞ্চলে যারা দাগি দুষ্কৃতি তারা এদের সঙ্গ দিচ্ছিল। পুলিশকে ফোন করি। বলল না কোনও অনুমতি নেই। তারপরে আমাদের এখানে জেলা সভাপতি আছেন, তিনি এসে বললেন আপনারা অনুমতি ছাড়া করছেন। পুরো রাস্তা ব্লক করে করছেন। তখন ওদের কিছু লোক এসে ওই যুব সভাপতিকে মারধর করে। তারা কী করে এত বড় সাহস পায়? মুকুন্দপুরকে অশান্ত করে দিল এর জন্য দায়ী কে?”
যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় বলেন, ”টপ ৩ ক্রিমিনালস নেম – বিধানসভা কেন্দ্র যাদবপুর। প্রথম নাম রাজু বিশ্বাস। দ্বিতীয় নাম মধু দাস ওরফে মোতি। তৃতীয় নাম সৌরভ ঘোষ। আজকে মোতির জন্য গলা ফাটাবে তৃণমূলের কাউন্সিলর বসুন্ধরা গোস্বামী, আর মানুষ চুপ করে থাকবে? মানুষ কিছু বলবে না? মানুষ সঙ্ঘবদ্ধ লড়াইয়ে নামবে না? সাধারণ মানুষ তারা প্রতিরোধ করছে। করবেই। কেন করবে বিজেপি? বিজেপির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। কারণ শান্ত যাদবপুর পছন্দ হচ্ছে না। উত্তাল করতে হবে। এটা তো মিলিত। সামনে তৃণমূল। পিছনে সিপিএম।”