কলকাতা: উপনির্বাচনের আগে নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরের সংখ্য়ালঘু ভোটারদের বার্তা মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। যে সংখ্য়ালঘুরা বিজেপি-কে ভোট দেন না, আগামী ৬ অক্টোবর তাঁদের পরীক্ষা বলে জানালেন। শুভেন্দুর দাবি, সরকারের সঙ্গে থাকার সুযোগ এসেছে সংখ্যালঘুদের কাছে। ৬ অক্টোবর পরীক্ষায় পাশ করবেন, না ফেল করবেন, তা তাঁদের উপরই ছেড়ে দিলেন তিনি। তবে নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে বিজেপি-ই জিতবেন বলে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু। (Suvendu Adhikari)
মঙ্গলবার নন্দীগ্রামের সভা থেকে সংখ্যালঘুদের উপনির্বাচন নিয়ে বার্তা দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “যাঁরা আমাকে ভোট দেন না, বিজেপি-কেও দেন না, সংখ্যালঘুরা…অনেকে এসেছেন এখানে। আমার আপত্তি নেই। আমি নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরের সংখ্যালঘুদের একটা আবেদন করে শেষ করব। একটা সুযোগ এসেছে আপনাদের কাছে। আপনারা সরকারের সঙ্গে থাকবেন, না থাকবেন না। সরকারের সঙ্গে যদি থাকতে চান, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যদি থাকতে চান, হাতে হাত মিলিয়ে যদি কাজ করতে চান এবং কাজ নিতে চান, ৬ অক্টোবর রেজিনগর আর নন্দীগ্রামে আপনাদের পরীক্ষা। আপনি পরীক্ষায় পাশ করবেন, না ফেল করবেন, আপনাদের উপরই ছেড়ে দিয়ে গেলাম। বাকিটা আমরা জিতছি, জিতবই। চলুন। চিন্তার কোনও কারণ নেই।” (West Bengal By Elections)
শুভেন্দুর এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধীরা। ‘ঋতব্রত-তৃণমূলে’র বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, “সকল মানুষের মুখ্য়মন্ত্রী উনি। সকলের সুখ-সুবিধা দেখা দরকার উনি। নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের প্রতি হুমকিমূলক বক্তব্য কাম্য নয়। উনি দলের অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করলেও, উনি কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। বলছেন, ভাবতে হবে সরকারের সঙ্গে থাকবে কি না। সরকারের সঙ্গে না থাকলে উন্নয়ন হবে না…! তাহলে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত মানুষ কি ওঁকে ভোট দিয়েছেন? শতাংশের হার দেখলে বিজেপি কত বেশি পেয়েছে! প্রায় ৫২-৫৪ শতাংশ মানুষ বিজেপি-কে ভোট দেননি। ওই ৫৪ শতাংশ মানুষের জন্য কাজ করবেন না, এটা কি চেয়ারে বসে বলতে পারেন উনি?”
আরও পড়ুন: UPI লেনদেনে বড় পরিবর্তন, মোদিকে ‘কম্প্রোমাইজ়ড’ বললেন রাহুল, আমেরিকার সামনে নতিস্বীকারের অভিযোগ
অন্য দিকে ‘কালীঘাট-তৃণমূলে’র বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী কিসের উপর ভিত্তি করে বলছেন? মুখে এককথা বলছেন…আর তৃণমূলকে ভয় পাচ্ছেন বলেই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করাচ্ছেন। বলছেন জিতব! আপনি জানেন জেতার অবস্থায় নেই আপনারা। তাই বাপাদিত্য গর্গ-সহ তৃণমূলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, পুরনো মামলায় ডেকে পাঠানো হচ্ছে, বলে দেওয়া হচ্ছে এসবে না থাকতে, রেজিনগরে মাঝরাতে পুলিশ ঢুকছে। এগুলো কেন করছেন?”
প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, “এই শেষ সুযোগ! উনি আহ্বান ১০০ বার জানাতে পারেন। শেষ সুযোগ বলবেন কেন? মানে, যদি সংখ্যালঘুরা ভোট না দিলে ক্ষমা করবেন না?আগে যেটা বলেছিলেন, চ্যাংদোলা করে বিধায়কদের কেমন ভাবে ফেলতে হয় জানেন। এটা মুখ্যমন্ত্রীর মুখে শোভা পায় না। যিনি নিজেকে সুশীল ধারা, অজয় মুখোপাধ্যায়, সতীশ সামন্তের ভাবশিষ্য বলে দাবি করেন, তাঁর মুখে এই ধরনের মন্তব্য শোভা পায়? এই ধরনের মন্তব্য সাজে? আমি তো মেলাতে পারছি না।”