সৌভিক মজুমদার, কলকাতা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কি বৈঠকের অংশ ছিলেন? তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক। কীভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই অপরাধের মধ্যে আসছেন? বিধানসভায় সই জালিয়াতিকাণ্ডের মামলায় প্রশ্ন তুললেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়ানোর নির্দেশ দিল আদালত।
“পুলিশের হাত বাঁধা নেই.. তারা তদন্ত করে দেখুক কার নির্দেশে সই জাল করা হয়েছে”
বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর, বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে অধ্যক্ষকে চিঠি দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর অধ্যক্ষের নির্দেশে বিধায়কদের সই-সহ একটি চিঠি পাঠান অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। যেখানে ৭০ জন বিধায়কের সই ছিল। তার মধ্য়েই একাধিক সই জাল বলে অভিযোগ ওঠে।সোমবার সেই সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে। বিচারপতি বলেন, পুলিশের হাত বাঁধা নেই। তারা তদন্ত করে দেখুক কার নির্দেশে সই জাল করা হয়েছে।
“অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে…অন্য ধারা কার্যকর হয় কিনা, সেটা দেখুক পুলিশ”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কীভাবে সই জালিয়াতির অভিযোগ এল? অন্য ধারা কার্যকর হয় কিনা, সেটা দেখুক পুলিশ।বিচারপতি আরও বলেন, ফিরহাদ হাকিম তার বয়ানে কী বলেছেন? যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন সবাইকে একসঙ্গে চলতে হবে। এটা থেকে কীভাবে জালিয়াতির অভিযোগ আসে?রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়, ৭০ জন বিধায়কের সই রয়েছে। তার মধ্যে ৩ জনের সই জাল বলে ফরেন্সিকে দেখা গেছে।এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে কার নির্দেশে স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে? খতিয়ে দেখা হচ্ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন কিনা।
“কীভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই অপরাধের মধ্যে আসছেন? “
বিচারপতি প্রশ্ন করেন, কত দিন সময় লাগবে তদন্ত শেষ করতে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কি বৈঠকের অংশ ছিলেন? তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক। কীভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই অপরাধের মধ্যে আসছেন? এই ঘটনায় কাকে সব থেকে বেশি অপরাধী ধরা হতে পারে?উত্তরে রাজ্য সরকারের আইনজীবী জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ওই মিটিংয়ের অংশ ছিলেন। তিনি জানতেন সবাই মিটিংয়ে নেই, কিন্তু তাদের সই আছে।সই জালিয়াতি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রক্ষাকবচ দিয়েছেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ। নভেম্বরেই মামলার পরবর্তী শুনানি।