মনোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, পশ্চিম বর্ধমান: চুরি করার অভিনব উপায়। বেশ কিছুদিন ধরেই বাসে বাসে ঘুরে সোনার গয়না ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র চুরি করছিলেন এক মহিলা। শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়লেন সেই মহিলা। কিন্তু কীভাবে তিনি চুরি করতেন? ঘটনার বিবরণ শুনলে যে কেউ চমকে উঠবেন। প্রথমে বাসে একা ওঠা মহিলাদের ফলো করতেন সেই মহিলা। এরপর রাস্তা পারাপারের সময় নিজের বাচ্চাকে পাঠিয়ে দিতেন সেই মহিলার কাছে। যখন সেই মহিলা বাচ্চাটির সঙ্গে কথা বলতে ব্যস্ত থাকতেন, তখনই তাঁর ব্যাগ থেকে বের করে নেওয়া হত সোনার গয়না। এভাবেই দিনের পর দিন সোনার গয়না ছিনতাই করার কাজ করতেন সেই মহিলা ছিনতাইকারী। আসানসোল দুর্গাপুর, বর্ধমান বাঁকুড়া, বীরভূম এলাকায়, দুর্গাপুর স্টেশন এলাকায় এরকমই একটা ঘটনার তদন্তে নেমে শেষ পর্যন্ত সফল হয় পুলিশ। সেই মহিলা ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর সোনার গয়না।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে যে অভিযুক্ত মহিলা আসানসোলের হীরাপুরের বাসিন্দা কল্যাণী বেদ। বানপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করে কোক ওভেন থানার পুলিশ। চলতি মাসের ১৪ তারিখ মুচিপাড়া থেকে দুর্গাপুর স্টেশনের অভিমুখে বাসে চেপে যাত্রা করেন বানু শেখ। বাসে পাশের সিটে বসে থাকা সহযাত্রী বাস থেকে নামার পরেই তার ব্যাগ থেকে দুটি সোনার বালা নিয়ে নেন। বাস থেকে নামার পরে রাস্তা পার করার অছিলায় এক শিশু এসে জড়িয়ে ধরেন বানু শেখকে। তারা রাস্তা পার করেন। কিন্তু তারপরেই তিনি লক্ষ্য করেন তার ব্যাগে থাকা বালাজোড়া উধাও। কোকোওভেন থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। ১৬ তারিখ দুর্গাপুর কোক ওভেন থানার পুলিশের অভিযানে বার্নপুরের হিরাপুর ৮ নম্বর এলাকা থেকে ধরা পড়ে কল্যাণী বেদ। অভিযুক্তকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে মহকুমা আদালত তিনদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার পর কোভেন থানার পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার হয় দেড়শো গ্রাম সোনার বালা সহ একাধিক অলঙ্কার পাওয়া গিয়েছে।

কয়েকদিন আগেই গোপন সূত্রে খবর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই যাত্রীকে আটক করেছিল পুলিশ। বিমানবন্দর থানার কর্মকর্তারা ওই দুই যাত্রীর কাছে সোনা পেয়েছে। ব্যাঙ্কক থেকে TG-313 সোনা নিয়ে এসেছিলেন তাঁরা। পুলিশ তাঁদের থানায় নিয়ে গিয়ে তল্লাশি চালায়। থানার টেবিলের ওপরই সোনাগুলো রাখেন ২ যাত্রী। নিজেদের কাছে সোনা থাকার কথা স্বীকারও করে নিয়েছিলেন ২ জনেই।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *