পার্থপ্রতিম ঘোষ, কলকাতা : বিধানসভায় ক্যান্টিন কর্মীর রহস্যমৃত্যু ! আজ সকাল ৯ টা নাগাদ, বিধানসভার ক্যান্টিনের শৌচালয় থেকে উদ্ধার হল ক্যান্টিন কর্মীর দেহ। সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় উমেশচন্দ্র দাস নামে ওই অস্থায়ী কর্মীকে। কী হয়েছিল ওই কর্মীর ? অসুস্থতার ফলে মৃত্যু  ? নাকি অন্তর্ঘাত ?  

সোমবার ক্যান্টিনের শৌচালয় থেকে উদ্ধার হয় ৬৬ বছর বয়সি কর্মী উমেশচন্দ্র দাসের দেহ। সোমবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধানসভা চত্বরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। মৃত ব্যক্তি ১৫ বছর ধরে বিধানচন্দ্র ক্যান্টিনে কর্মরত ছিলেন। মাঝেমধ্যেই রাতে ক্যান্টিনের ভিতরেই থাকতেন তিনি। রবিবার রাতেও সেখানেই ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

এই বিষয়ে সাংবাদিকদের পুলিশ জানায়, সোমবার সকালে ক্যান্টিনের অন্য এক কর্মী কাজে এসে উমেশচন্দ্র দাসের খোঁজ করেন। ঘরে দেখতে না পেয়ে শৌচালয়ের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ দেখেন তিনি। বেশ কিছুক্ষণ ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া মেলেনি। প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষার পরও দরজা না খোলায় পিছনের জানালা দিয়ে ভিতরে উঁকি দেন অন্য কর্মীরা। তখনই তাঁরা দেখতে পান, শৌচালয়ের ভিতরে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছেন উমেশচন্দ্র। এরপর ক্যান্টিনের কর্মীরাই দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। দ্রুত তাঁকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে মৃতের শরীরে কোনও স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন বা অপরাধমূলক ঘটনার ইঙ্গিত মেলেনি বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তবে বিধানসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটায় কোনও দিকই এখনই উড়িয়ে দিতে চাইছে না তদন্তকারীরা।           

ঘটনাস্থলে হোমিসাইড বিভাগের আধিকারিকদের পাশাপাশি ডগ স্কোয়াডও পৌঁছে যায়। কোনও সূত্র বা প্রমাণ পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। 

সোমবার। বিধানসভার কাজের দিন। সকাল সকাল এক – এক করে বিধায়ক ও আধিকারিকরা সেখানে এসে পৌঁছান। কিন্তু তার আগেই এমন ঘটনা ঘটেছে। তাই এদিন বিধানসভায় সকাল থেকেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। এখন বিধানসভার দীর্ঘদিনের কর্মী উমেশচন্দ্রের মৃত্যুর আসল কারণ কী, সেটাই জানার অপেক্ষা।              

 

 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *