কলকাতা: গত সাড়ে ৫ মাসে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল আমলের পাঁচ-পাঁচজন মন্ত্রী!

শুরুটা হয়েছিল সুজিত বসুকে দিয়ে। আর এই ৫ জনের গ্রেফতারির তালিকায় শেষ নামটা হল ইন্দ্রনীল সেন। এর প্রেক্ষিতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলছে মমতা তৃণমূল কংগ্রেস।  বিজেপির বক্তব্য, ‘সেরকম কাজ করেছেন বলেই ৫ মন্ত্রী জেলে গিয়েছেন।’ 

কারও বিরুদ্ধে পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগ। কারও বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী মজুতের অভিযোগ। সাড়ে ৫ মাসে জেলযাত্রা হয়েছে রাজ্যের ৫ মন্ত্রীর। প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু থেকে শুরু করে, প্রাক্তন পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী দিলীপ মণ্ডল, প্রাক্তন কারামন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস, প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ ও প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার হতে হয়েছে।

গত ১১ মে। পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায়, প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করে ED। এরপর ২৭ মে হুমকির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় প্রাক্তন পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী দিলীপ মণ্ডলকে। ওড়িশার পুরী থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সামনে আসে তৃণমূল বিধায়কের বিশাল এই বাগানবাড়ি। ভিতরে সুইমিং পুল… পুকুর… বিশাল লন… বাগানে সাজানো নানা মডেল… গ্লাস রুম… সঙ্গে দামি গাড়ি! কী নেই সেখানে!

কীভাবে পুলিশকে এড়িয়ে তিনি পালিয়েছিলেন, সামনে আসে সেই সিসিটিভি ফুটেজও। ৯ জুন, ত্রাণ সামগ্রী অবৈধভাবে মজুতের অভিযোগে তৃণমূল জমানার কারামন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ১৭ জুন, দুর্নীতির অভিযোগে বুধবার কলকাতার ফুলবাগানের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহকে। গ্রেফতার করে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় দিনহাটায়। থানা থেকে বের করার সময়, হাসপাতাল থেকে বেরনোর সময়, দিনহাটা মহকুমা আদালতে ঢোকার সময়, দফায় দফায় উদয়ন গুহকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ডিম।

এবার আরেক প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেছেন, ‘অনেকরকম অপরাধ করেছেন। কিন্তু তারা যেই বিজেপিতে চলে যাচ্ছেন বা বিজেপির বি-টিমে চলে যাচ্ছেন, তখন কিন্তু আর কোনও তদন্ত হচ্ছে না। এটা হচ্ছে আসল কথা। তখন মনে হয়, এটা রাজনৈতিক অঙ্ক কষে এই তদন্ত বা গ্রেফতারিটা ব্য়বহার।’

সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলছেন, ‘৫ জন ধরা পড়েছেন নতুন কিছু নয়। আরও অনেক ধরা পড়ার কথা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার তো পারলে প্রায় সবই দুর্নীতিগ্রস্ত।’

প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেছেন, ‘এই বাংলায় দেখতে দেখতে আমাদের চোখে ছানি পড়ে গিয়েছে, এই হচ্ছে, তাই হচ্ছে, ওই হবে, তাই হবে, দেখবেন আমরা এলে করে দেব, দেখবেন আমরা এলে দেখিয়ে দেব, দেখা হবে কি? দেখে দেখে আমাদেরও কান পচে গেল, চোখে ছানি পড়ে গেল।’

এই নিয়ে আবার মিলে যাচ্ছে বিজেপি ও ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়দের শিবিরের বক্তব্য। রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলছেন, ‘৫ জন প্রাক্তন মন্ত্রী জেলে গিয়েছেন। তাঁরা সেরকম কাজ করেছেন বা সেরকম কাজ করেছেন বলে অভিযোগ আছে।’

গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র ঋজু দত্ত বলেছেন, ‘আমার নামে তো বিগত ৬ মাসে কোনও এফআইআর নেই। আমাকে তো মুখ্যমন্ত্রী জেলে ঢুকিয়ে দেননি। যারা চুরি করেছে তাদের এখন ফল ভুগতে হবে।’

কে দোষী, কে নির্দোষ! তার বিচার করার দায়িত্ব আদালতের! তাই তদন্ত হওয়া উচিত নিরপেক্ষ, রাজনীতি বর্জিত!

আরও পড়ুন: বড় সিদ্ধান্ত মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের, একসঙ্গে তিনজনকে ছাঁটাই! আইপিএলের আগে পাল্টে যাচ্ছে নকশা



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *