সুদীপ চক্রবর্তী, রায়গঞ্জ: স্বামীর শিল্পীসত্তাকে বাঁচিয়ে রাখতে ১১ বছর যাবত মূর্তি গড়ে ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ার বানিয়েছেন মা। স্বামীর মৃত্যুর পর বিভিন্ন দ্বিধা দ্বন্দ্ব কাটিয়ে ১১ বছর যাবত মূর্তি গড়ে ছেলেকে পড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। রায়গঞ্জের কাঞ্চনপল্লিতে অবস্থিত তাঁর মৃৎশিল্প প্রতিষ্ঠানটি। নাম লোকনাথ মৃৎশিল্পালয়। এই প্রতিষ্ঠানেই এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মূর্তি গড়ে ছেলেকে দাঁড় করিয়েছেন এক হার না মানা লড়াকু মানসিকতার মা।

রায়গঞ্জের কুমোরটুলি নামে পরিচিত কাঞ্চনপল্লি এলাকাটি কার্যত মৃৎশিল্পের আঁতুড়ঘর। এখানে অগণিত স্বনামধন্য মৃৎশিল্পীর বাসস্থান রয়েছে, যাঁদের শিল্পকর্ম জেলা তথা জেলার বাইরেও যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়ে নেয়। উৎসবের মরশুমে বিশেষ করে পুজো-পার্বনের প্রাক মুহূর্তে এখানকার মৃৎশিল্পালয়গুলিতে চরম ব্যস্ততা চোখে পড়ে। রবিবার কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর শুভক্ষণে রায়গঞ্জ শহরের কাঞ্চনপল্লির এমন এক মৃৎশিল্পীর কথা তুলে ধরা হল, যে মানুষটি তাঁর প্রয়াত স্বামীর পেশাকে আঁকড়ে ধরে বিগত ১১ বছর মৃৎশিল্পীকে ঘিরেই পেয়েছে নিজের বাঁচার রসদ, তাঁর নাম অর্পিতা পাল।      

আরও পড়ুন:- স্বরূপ বিশ্বাস নিয়ে বড় কোনও চমক অপেক্ষায় ? মুখ খুললেন রুদ্রনীল ঘোষ, “সেটিং সেটিং গন্ধ”,কটাক্ষ কুণালের 

স্বামীর মৃত্যুর পর মোটেও ভেঙ্গে পড়েননি অর্পিতা, বরং একমাত্র ছেলে যাতে লেখাপড়া শিখতে পারে, তার জন্য সবরকম চেষ্টা করেছেন তিনি। অর্পিতার কষ্ঠ সার্থক হয়েছে। তাঁর ছেলে আজ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে কলকাতার একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। ছেলে যত উচ্চশিক্ষিতই হন না কেনও, বাবা-মার ঐতিহ্যতে এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী তিনিও। অর্পিতার এমন দৃঢ়তা মানসিকতাকে, কুর্নিশ জানায় রায়গঞ্জ তথা বাংলা বিহারের মানুষ।       

মৃত স্বামীর পেশাকে আঁকড়ে বিগত ১১ বছর যাবত বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি গড়ে চলেছেন মৃৎশিল্পী অর্পিতা পাল। অবশ্য মূর্তি গড়ার শিল্পকর্মের সঙ্গে তিনি প্রায় তিন দশক ধরে যুক্ত। বিশিষ্ট মৃৎশিল্পী স্বামী গণেশ পালের শিল্প সত্তাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন তিনিই। এখন রায়গঞ্জের কুমোরটুলির একজন স্বনামধন্য মৃৎশিল্পী হিসেবে তিনি বেশ খ্যাতি অর্জন করেছেন। এই মৃৎশিল্পকর্মকে আঁকরে ধরেই অর্পিতা তাঅর একমাত্র পুত্র জয়ন্ত পালকে আজ সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর শিল্পালয় আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। পুজোপার্বনের প্রাক মুহূর্তে এখানে ক্রেতাদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়।                   



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *