কলকাতা: কার দখলে তৃণমূলের ‘জোড়াফুল’? উপনির্বাচনের আগে চূড়ান্ত ফয়সালার সম্ভাবনা কম। দুই তৃণমূলের সঙ্গে বৈঠক জাতীয় নির্বাচন কমিশনের। প্রথমে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’, তারপর ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর সঙ্গে বৈঠক। উপনির্বাচনের আগে চূড়ান্ত ফয়সালার সম্ভাবনা কম। অন্তর্বর্তী কোনও নির্দেশ দিতে পারে কমিশন। আপাতত ফ্রিজ করে দেওয়া হতে পারে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক, কমিশন সূত্রে খবর। উপনির্বাচনে লড়তে দু-পক্ষকে অস্থায়ী নাম ও প্রতীক দিতে পারে কমিশন। (Kalighat TMC vs Ritabrata TMC)
শনিবার প্রথমে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ এবং তার পর ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। দুই পক্ষের কাছে কত জন বিধায়ক এবং সাংসদের সমর্থন আছে জানতে চাওয়া হয়। এর আগে মহারাষ্ট্রে শিবসেনায় ভাঙনের সঙ্গেও সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কমিশন। একনাথ শিন্ডের কাছে বেশি সংখ্যক বিধায়ক এবং সাংসদের সমর্থন ছিল সেই সময়। উদ্ধব ঠাকরে দলের সংবিধান মানছিলেন না বলে সেই সময় যুক্তি দেন শিন্ডে। এদিন ‘ঋতব্রত তৃণমূলে’র তরফেও তেমনই যুক্তি দেওয়া হয়। (Election Commission)
আরও পড়ুন: ভাইপোকে দল থেকে বহিষ্কার করলেন মায়াবতী, বললেন, ‘পারিবারিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে’
অন্য দিকে, ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র তরফে কল্যাণ জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় দল তৈরি করেছিলেন। নিজে জোড়াফুল এঁকেছিলেন, তা থেকেই দলের প্রতীক তৈরি হয়। মমতা তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন। মমতা ওই প্রতীকে তিন বার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। যাঁরা এখন বিদ্রোহ করেছেন, কয়েক মাস আগে মমতার আঁকা ওই প্রতীকেই নির্বাচনেই জয়ী হন তাঁরা। তাই তাঁদের যেন গুরুত্ব দেওয়া না হয়।
আরও পড়ুন: ‘বাড়িতে ঢুকে মহিলার কাপড় টেনে খুলে ফেলা ধর্ষণের চেষ্টা নয়’, বলল আদালত
তবে সিদ্ধান্ত যাতে দ্রুত কার্যকর হয়, তার জন্য দুই শিবিরই সওয়াল করেছে। কারণ নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর। তার আগে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার যাতে নিয়ে নেওয়া হয়, চাইছে দুই পক্ষই। তবে দুই পক্ষেই জোড়াফুল প্রতীক চাইছেন। তবে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, উপনির্বাচনের আগে চূড়ান্ত ফয়সালার সম্ভাবনা কম। অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়ে আপাতত জোড়াফুল প্রতীকটি ফ্রিজ করে দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে নতুন প্রতীক চিহ্নে ভোটে লড়তে হতে পারে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ এবং ‘কালীঘাট তৃণমূল’।
এদিন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন কল্যাণ। তিনি জানান, কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে পারে। সেটা দেখে যা বলার, যা করার করবেন তাঁরা। তিনি জানিয়েছেন, কমিশন যতক্ষণ পর্যন্ত না বলছে, তাঁরা জোড়াফুল চিহ্নেই ভোটে লড়াই করবে ‘কালীঘাট তৃণমূল’। নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে তাঁরা ভোটে লড়বেন, মমতা সেই ঘোষণা করবেন বলে জানান। তবে তিনি ‘অপটিমিস্টিক’ নয় বলেও জানান কল্যাণ।