কলকাতা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনে নতুন করে উত্তেজনা। গভীর রাতে থেকে দফায় দফায় উত্তেজনার পর, শনিবার দুপুরেও উত্তেজনা ছড়ায়। আজ অভিষেকের জন্মদিন। সেই উপলক্ষে কালীঘাটে তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় করেছেন মমতা-তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। অভিষেকের বাড়ির সামনে এই মুহূর্তে ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে। সেখানেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পুলিশের সঙ্গে রীতিমতো ধস্তাধস্তি শুরু হয়েছে। মাইক নিয়ে সকলকে বার্তা দিতে শোনা যায় তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে। (Abhishek Banerjee)
আজ জন্মদিন অভিষেকের। সেই উপলক্ষে দুপুরে তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় উপচে পড়ে। অভিষেককে শুভেচ্ছা জানাতে কেক হাতে এসে পৌঁছন বহু মানুষ। সেই অবস্থায় পুলিশ জমায়েত আটকানোর চেষ্টা করে। সকলকে অভিষেকের বাড়ির ভিতরে চলে যেতে বলা হয়। বলা হয়, ভিতরে গিয়ে কেক কাটতে। সেই নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বচসা, ধস্তাধস্তি শুরু হয় মমতা-তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে। রাস্তার পাশে, যে অংশে এতদিন অভিষেকের জন্মদিনে কেক কাটা হয়েছে, সেখানে কেক কাটতে চান মমতা-তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা, যাতে রাজি হয়নি পুলিশ। (TMC News)
এদিন অভিষেকের বাড়িতে চলে আসেন মমতাও। তাঁদের পুজো আটকাতে ইচ্ছাকৃত ভাবেই এই সব ঘটানো হচ্ছে, পুলিশ জোরজুলুম করছে বলে অভিযোগ তোলেন। এর পর মমতা-তৃণমূলের অনুগামীরা কেক কাটায় অংশ নিতে এলে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। পাল্টা স্লোগান তোলেন মমতা-তৃণমূলের কর্মী, সমর্থকেরা। এক তরুণী বলেন, “ওরা ভয় পেয়েছে অভিষেককে। তাই এত পুলিশ নামিয়েছে আজকের দিনে। আমরা কিছু করিনি। তার পরও পুলিশ অত্য়াচার করছে।” (Mamata Banerjee)
আরও পড়ুন: ‘আমার বুকের উপর দিয়ে বুলডোজার চালিয়ে দিন, দেখি কত হিম্মত’, বললেন মমতা, অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছলেন
সেই পরিস্থিতিতে অভিষেকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন মমতা। মাইক নিয়ে বলেন, “আজ অভিষেকের জন্মদিন। প্রধানমন্ত্রী নিজেও ওকে চিঠি পাঠিয়েছেন। ও সাংসদ। আর এখানে রাত থেকে ঝামেলা করানো হচ্ছে। আজ বিজেপি-র কর্মীদের অ্যালাও করে কাল রাতে ঝামেলা করিয়েছেন। কালীঘাট পুলিশ দয়া করে শান্তি রক্ষা করুন। এই দেখুন মেয়েদের শাঁখা ভেঙেছেন, লোহা ভেঙেছেন। আপনাদের বোঝা উচিত, যার শাঁখা ভেঙেছে সে আমার পাশে দাঁড়িয়ে। মনে রাখবেন, যার যার নিজের বাড়িতে থাকার অধিকার আছে। দয়া করে ঠাকুরের গাড়ি পাস করতে দিন। যদি ভাবেন আমি চলে যাব, আমি যাচ্ছি না। আমি থাকছি। পুলিশকে অনুরোধ, আমাদের লোকেরা বাঁ দিকে থাক। ডান দিক খালি রাখুন। আমরা কারও অসুবিধা করব না। কালীঘাট থানার ওসিকে বলব, পরিবারকে ভাল রাখুন। ভাল থাকুন। কালীঘাটের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখুন। কিন্তু অভিষেকের বাড়ির সামনে বিজেপি-কে দাঁড় করিয়ে যে ঘটনা ঘটিয়েছেন…দয়া করে হামলার চেষ্টা করবেন না। আপনাদের একটাই কাজ, একদিকে হামলা, অন্য দিকে, মামলা। একদিন এই হামলা এবং মামলা করতে করতে আপনারা বিজেপি-র হাতের পুতুল হয়ে, নিজেদের চেয়ারও হারাতে পারেন। কোর্টে মামলা চলছে। আমাদের কাজে বাধা দিলে বার বার করে কোর্টকে জানাচ্ছি যে কালীঘাট থানা, জমিস্টার অজয় নন্দা, শুনতে পাচ্ছেন? চোরবাগানে যা ঘটেছে…জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি মেনে বিনীত গোয়েল পদত্যাগ করেন। নৈতিক দায় নেন উনি। আপনি পদত্য়াগ করুন। আমার কালীপুজো মন্দিরের সামনেই হবে। পারলে আটকান।”
কর্মী-সমর্থকদের স্লোগানের মধ্যে মমতা বলেন, “এই জিনিস করবেন না। কাল আমার বাড়ির সামনে, পাড়ায় হামলা করেছেন। আজ রাস্তার উপর বেআইনি পুজো করতে দিয়েছেন, যা আজ পর্যন্ত হয়নি। আর যাদের আইনি পুজো, তাদের থ্রেট করছেন। যারা নিজেদের সনাতনী বলেন, পুজোর দিনও আপনাদের হামলা করতে হচ্ছে? কিসের সনাতনী? হিন্দু ধর্মকে আঘাত করছেন। এসব খেলা খেলবেন না। গোটা দেশকে বলব…I.N.D.I.A শিবিরের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর থেকে অত্যাচার করছে। পুলিশ মহিলাদের উপর অত্যাতার করছে, আমাদের কর্মীদের হেনস্থা করছে, গ্রেফতার করছে। আমি বিজেপি কর্মীদের দোষ দিচ্ছি না। পুলিশ তার দায়িত্ব পালন করছে না। তদন্ত চলাকালীন এনকাউন্টার হচ্ছে। আর কত প্রোমোশন হবে? এবার হবে ডিমোশন।”