কলকাতা: প্রাথমিক-উচ্চ প্রাথমিকে কর্মরত শিক্ষকদের টেট পাস বাধ্যতামূলক। এবার কর্মরত শিক্ষকদের টেট দেওয়ার নির্দেশ দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই নিয়ে SSC, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে চিঠি স্কুল শিক্ষা দফতরের। প্রয়োজনে ৬ মাসের ব্যবধানে বছরে ২ বার টেট নেওয়া হোক এমনটাই নির্দেশ সরকারের তরফ থেকে। ৫ বছরের বেশি চাকরি বাকি আছে কিন্তু টেট উত্তীর্ণ নয়, কেবলমাত্র তাদের ক্ষেত্রেই হবে টেট।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ৩১ অগাস্ট, ২০২৮-এর মধ্যে টেট পাশের যোগ্যতা অর্জন করতেই হবে। আদালতের নির্দেশ উল্লেখ করে দ্রুত টেট নেওয়ার নির্দেশ সরকারের। ইতিমধ্যেই, প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকের টেট-হীন শিক্ষকদের পরীক্ষা নেওয়ার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর। 

কী নির্দেশিকা স্কুল শিক্ষা দফতরের ?

স্কুল শিক্ষা দফতর থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশন ও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদে। এখানে বলা হয়েছে ২০২৮-এর ৩১ আগস্টের মধ্যে এ রাজ্যে প্রাথমিক ও উচ্চ-প্রাথমিক স্তরে কর্মরত যত শিক্ষক আছেন, যারা টিচার্স এলিজিবিলটি টেস্ট (TET)  উত্তীর্ণ নন, তাঁদের TET দিতে হবে এবং এই যোগ্যতা গ্রহণ করতে হবে। 

কাদের দিতে হবে টেট ?

এই নির্দেশিকার পেছনে সুপ্রিম কোর্টেরও একটা ভূমিকা আছে। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, যারা টেট উত্তীর্ণ নন, যাদের ৫ বছরের বেশি চাকরি এখনও আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে টেট বাধ্যতামূলক। এবং এই মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০২৮-এর ৩১ আগস্ট। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে কর্মরত শিক্ষকদের টেট পাস করতে হবে। গোটা দেশ জুড়ে এই বিধি বলবৎ হয়েছে।  অনেক রাজ্য শুরু করেছে টেট নেওয়া, আবার অনেক রাজ্য এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হল যে, যত দ্রুত প্রয়োজন, প্রয়োজনে বছরে ২ বার টেট নিতে হবে। ৬ মাসের ব্যবধানে টেট নিতে হবে। এবং এ বিষয়ে দ্রুত রিপোর্ট জমা দিতে হবে স্কুল শিক্ষা দফতরকে। 

যদি পাস না করেন কী হবে ?

নির্দেশিকা অনুযায়ী, যদি ২০২৮-এর ৩১ আগস্টের মধ্যে টেট পাস করতে না পারেন, তবে তাঁদের চাকরির মেয়াদ সেখানেই শেষ হয়ে যাবে। তাঁরা আর চাকরিতে পদোন্নতি পাবেন না। চাকরি নাও থাকতে পারে। 

উল্লেখ্য, রাজ্যে প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরে চাকরি করতে গেলে টেট উত্তীর্ণ বাধ্যতামূলক। কিন্তু অতীতে যখন টেট ছিলোনা তখন অনেকেই চাকরি পেয়েছেন টেট ছাড়াই। এ ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটা প্রায় ১ লক্ষের কাছাকাছি। এই ১ লক্ষ শিক্ষক যারা কর্মরত আছেন এবং যাদের মেয়াদ ৫ বছরের বেশি আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই বিধি বলবৎ হয়েছে। পরবর্তীতে এই পরীক্ষা নিয়ে নির্ঘন্ট প্রকাশ করবে এসএসসি ও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *