কলকাতা: শিক্ষক দিবসে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ নিয়ে আশ্বাসবাণী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। জানালেন, জাতীয় শিক্ষানীতি গ্রহণ করেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টিরও দ্রুত নিষ্পত্তি হবে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ করা হবে শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মী। OBC মামলা থেকে ইতিমধ্যেই সরে এসেছে তাঁর সরকার। সুপ্রিম কোর্ট এবং হাইকোর্টের নির্দেশ মতোই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মহার্ঘভাতা নিয়েও আশ্বস্ত করেছেন তিনি। (Suvendu Adhikari on SSC Recruitment)

শনিবার শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মী নিয়োগ নিয়ে বার্তা দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “যে পদ্ধতিতে শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে, যে পদ্ধতিতে শিক্ষক শব্দটাকে অমর্যাদা করা হয়েছে। শিক্ষক শব্দটির কত বড় মানে রয়েছে…এখনও শিক্ষকদের দেখলে, যাঁরা বেঁচে আছেন, আমি হয়ত গাড়ি করে যাচ্ছি, উনি টোটো করে আসছেন। গাড়ি দাঁড় করিয়ে আগে ওঁর টোটো পাস করিয়ে দিই। উনি হেঁটে যাচ্ছেন…আমি পায়ের জুতো খুলে প্রণাম করি। শিক্ষক শব্দের যে মর্যাদা, যে ব্যাপ্তি, তা আছে আজ? বলুন! পুনর্নির্মাণের দরকার নেই? আর একবার বিদ্যাসাগরের নবজাগরণ, রাজা রামমোহন রায়ের নবজাগরণ, সংস্কারের দরকার নেই? ইতিমধ্যে অনেক কিছু হারিয়ে ফেলেছি আমরা। হারানো জিনিসগুলি ফেরাতে গেলে কী করতে হবে? উপযুক্ত আচার্য নিয়োগ করতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়ে…তাঁরা যাতে ঠিক মতো পড়াতে পারেন, সারাদিন যাতে মিড ডে মিলের হিসেব করতে না হয়, তার জন্য শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করতে হবে। দিতে হবে লাইব্রেরিতে লাইব্রেরিয়ান, কেমিস্ট্রি, ফিজিক্স, বায়োলজির জন্য এক্সপার্ট টেকনিক্যাল লোক। ঘণ্টা বাজানোর, সাইকেল স্ট্যান্ড মেনটেন করার লোকও দিতে হবে।” (Teachers Recruitment)

আরও পড়ুন: ‘মোদিজী আমার দাদা, এক ফোনে ছেড়ে দিয়েছিল পুলিশ’, দলিত কন্যার বাবার মাথা ফাটিয়ে দেওয়া নিয়ে বড়াই, অবশেষে গ্রেফতার স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ

নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখতেই রামকৃষ্ণ মিশবের মহারাজদের স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাথায় বসানো হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “এই ধরনের স্কুল সার্ভিস কমিশন হবে বাবতে পেরেছিলেন! মহারাজরা কি খারাপ কিছু করতে পারেন? তাঁরা গৃহস্থ জীবন ত্যাগ করে গায়ে তুলে নিয়েছেন গেরুয়া বসন। সব ত্যাগ করে এসেছেন। তাঁদের হাতে সব ছেড়ে দিয়েছে রাজ্য। নিয়োগ করুন আপনারা। যে ভুল আগে হয়েছে, কে আসল শিক্ষক, কে নকল, আমরা ওই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিল। ভুল থেকে মানুষ শিক্ষা নেয়। যে জায়গাগুলো অপরিষ্কার ছিল, তার জন্য স্বচ্ছ ভারত অভিযান করছেন প্রধানমন্ত্রী। এটাও একরকমের সংস্কার। IIM থেকেও একজন সদস্য রয়েছেন। শিক্ষক নিয়োগ করে দেব আমরা। নিশ্চিন্তে থাকুন। সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্টের নির্দেশ মাথায় রেখে করে দেব। কোনও অন্যায় হবে না। বিধানসভায় ইতিমধ্যেই OBC বিল পাল্টে দিয়েছিয অন্যায় ভাবে যাদের OBC করা হয়েছিল, তোষণের রাজনীতির জন্য, তাদের বাদ দিয়েছি। ৮ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট খোলার পর সেখানে গিয়ে এগজিট নিয়ে এসেছি। SSC তৈরি হয়ে গিয়েছে। বলেছি যে, মোবাইল ফোনে মেসেজ দিয়ে নিয়োগ হয় না। নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। দিয়ে দিতে হবে ওয়েবসাইটে। নিয়োগের ক্ষেত্রে একমাত্র বিচার্য বিষয় হবে মেধা এবং পরীক্ষা। অন্য কিছু দেখার দরকার নেই।”

আরও পড়ুন: ২৭ নভেম্বর বাল্যবিবাহ নির্মূলকরণ দিবস, সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপুঞ্জে

SSC-তে মৌখিকের চেয়ে লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব বাড়ানোর কথাও বলেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, “লিখিত পরীক্ষার পাশে অ্যাকাডেমিকসের নম্বর। এত মৌখিক নম্বর কেন? নিজের লোক ঢোকানোর জন্য? ১২ নম্বর, ২০ নম্বর কেন? আমি বলেছি, ৫ নম্বরের বেশি রাখা উচিত নয়। পরামর্শ দিয়েছে SSC-কে। বলেছি, ১০০ নম্বরের রস্টার মানবেন। বাবাসাহেব আম্বেদকর দিয়ে গিয়েছিলেন SC/ST অধিকার। পরবর্তী কালে মণ্ডল কমিশন হয়েছে, OBC অধিকার হয়েছে। মোদিজী উচ্চবর্গের আর্থিক ভাবে দুর্বলদের জন্য EWS দিয়েছেন। প্রতিবন্ধীদের অধিকার রয়েছে।”

 শিক্ষক-শিক্ষিকাদের DA নিয়েও এদিন আশ্বস্ত করেন শুভেন্দু। জানান, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে রয়েছে। পুজোর আগে মিটিয়ে দেবেন তাঁরা। শুভেন্দুর কথায়, “আগের সরকার আদালতের নির্দেশে কিছুটা দিতে বাধ্য হয়েছে। আমরা এসে কিছুটা দিয়েছি। আপনাদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত হয়নি। সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে রয়েছে। আমাদের নীতি খুব পরিষ্কার। মালহোত্র কমিটি যে সিদ্ধান্ত নেবে, মেনে নেব আমরা। হিসেব করে দেখেছি, শিক্ষক-শিক্ষিকা-শিক্ষাকর্মী, অবসরপ্রাপ্ত মিলিয়ে ১২০০০ কোটি লাগবে। একদিনে পারব না। নির্দেশ এলে আমরা সহযোগিতা করব। এটা আমাদের নীতির মধ্যে রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আগে DA-র গ্যাপ ছিল ৪২ শতাংশ। পুজোর আগে অ্যাডভান্স বেতন দেহ আমরা ২০ শতাংশ অ্যাডিশনাল যোগ করেই। সপ্তম বেতন কমিশন তৈরি করে দিয়েছি। রিপোর্ট এলেই কার্যকর করে দেব। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির যুগে অর্থনৈতিক সুরক্ষাও একটি বিষয়।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *