সত্যজিৎ রায়ের রয়েল বেঙ্গল রহস্যতে মোহিত সিংহ রায় হেয়ালির চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন ফেলুদাকে। মুড়ো হয় বুড়ো গাছ হাত গুন ভাত পাঁচ দিক পাও ঠিক ঠিক জবাবে। এখন কথা হল ঠিক জবাবটা পাব কোথায়? আজ কারও নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে ভাইপো গ্যাংয়ের কথা বললেন চন্দ্রনাথ রথের খুনি হিসেবে, তার সঙ্গে কৌশলে ডায়মন্ড হারবারকে যুক্ত করে দিলেন, তা কিন্তু ইঙ্গিতেই রাজ্য রাজনীতিতে একেবারে ঝড় তুলে দিয়েছে। প্রবাদে বলে সমঝদারওকে লিয়ে ইশারা হি কাফি হ্যায়। এখন এক্ষেত্রে ইশারা কোনদিকে আসে…। ৬ মে গুলি করে চন্দ্রনাথ রথকে খুন করা হয়। আর সেই ঘটনার প্রায় সাড়ে চার মাস পর চন্দ্রনাথ রথের মাকে নিজের ছেড়ে দেওয়া নন্দীগ্রাম আসনে প্রার্থী করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ঠিক কি বললেন, কি ভাষায় বললেন বুঝতেই পারছেন, অত্যন্ত মারাত্মক সেই অভিযোগ। অনির্বাণ কি বলবেন? তিনি বলেন, ‘নাম করে বলতে পারলেন না কেন? মানে শুভেন্দু অধিকারী তো বললেন, তো উনি তো মুখ্যমন্ত্রী আছেন এখনও… আরএসএস সরিয়ে দিয়েছে নাকি তাঁকে, যদি সরিয়ে না দিয়ে থাকে, তাহলে নাম করে বলতে পারতেন। দেখুন প্রথমে তাঁর নিজের সরকারের SIT… যে কোনও দিন হতে চলেছে আপনি অপেক্ষা করুন, দেখুন না যে কোনও দিন এটা হতে চলেছে। শুভেন্দু অধিকারী কি পরিমাণে চাপে রয়েছেন, অমিত শাহ বাদ দিয়ে কাউকে ম্যানেজ করতে পারছেন না এই খবর যারা দিল্লির সাংবাদিক মহলে একটু কান পাতেন তাঁরা প্রত্যেকেই জানেন। যদিও এটা গুরুত্বপূর্ণ নয় এই মুহূর্তে। এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে যে রাজ্য পুলিশের এসআইটি তদন্ত ভার হাতে নিল ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে এবং আমাদের মাননীয় বিধায়ক ব্যারাকপুরের অনেকে বিজেপির লোকেরা বলছে এটা কি কুইক রিলিফ আমি এসব বলছি না সে আমার এসটিএম কলিগ বটে সে সঙ্গে সঙ্গে বলে দিল কে কে করেছে। ফাইন এবার যদি কে কে করেছে এটা বিজেপির নিজের বিধায়ক জেনে থাকে এসআইটি প্রথম যাকে গ্রেফতার করেছে উত্তরপ্রদেশের একটা লোক কেন এবং সে আবার সেখানকার বিজেপি নেতার ঘনিষ্ঠ কেন? তার মা আবার বলছে রাজ্য পুলিশ তাকে আবার ফাঁসিয়েছে। সে আবার সিবিআই তদন্ত চাইছে। এর মধ্যে বলে রাখি 6 ই মে এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটে ৭ ই মে আমাদের দল এর তরফ থেকে অফিশিয়াল টুইট করে বলা হয় যে দরকার কোর্ট মনিটর সিবিআই ইনভেস্টিগেশন করুন আমাদের কোন আপত্তি নেই। আমাদের দলের তরফ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়। তারপর থেকে এবার দেখলাম মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ডেটাটাও কারেক্ট নেই, উনি বলে সাতজন গ্রেফতার হয়েছে না ১১ জন গ্রেফতার। ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জ শীট তার মধ্যে কন্ট্রাক্ট কিলারদের আমি নাম বলে দিচ্ছি। রাজ সিং, মনু সিং, গোলু সিং, মায়ঙ্ক রাজ মিশ্রা, বিকি মৌর্য, নবীন কুমার সিং এরা হল কন্ট্রাক্ট কিলার। এদের কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেছে তিনজন সিবিআই এর দাবি এটা। বিনয় রায় সঞ্জয় এটাই বিকাশ মিশ্র। মূল চক্রী কারা? দু’জন, দুই ভাই সাগর সোনকার সাহেব সোনকার। এই দু’জনের রাজনৈতিক পরিচয় কি? এরা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ। এবং বিজেপি কার্যকর্তা। এর মধ্যে কোথায় তৃণমূল কোথায় ডায়মন্ড হারবার কোথায় বা কোট আন কোট ভাইপো, কোথায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়?’