কলকাতা: রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধা.য়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হল থানায়। তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মৃত্যু কামনা করেছেন বলে অভিযোগ। বহরমপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হল। অভিযোগ দায়ের করেছে রিপাবলিকান পার্টি অফ ইন্ডিয়া (আঠাওয়ালে)। (Humayun Kabir)
সম্প্রতি হুমায়ুনের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক বাধে। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে বহিষ্কার করেছিল। সেদিনই আমি দু’হাত তুলে মহান আল্লাহ্-র কাছে আমি বলেছিলাম, এই অহঙ্কারী মহিলা যেভাবে আমাদের অসম্মান করল, এর যেন ক্ষমতাচ্যুত হয়। মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যায়। আল্লাহ্ কাজে লাগিয়ে দিয়েছেন।” (Suvendu Adhikari)
আরও পড়ুন: ভোটে জেতার পর দলবদল করেছেন কমপক্ষে ১১১ জন সাংসদ-বিধায়ক, শুধু গত চার বছরেই, বলছে ADR-এর রিপোর্ট
এর পরই শুভেন্দুর প্রসঙ্গে চলে যান হুমায়ুন। নাম না করেই বলেন, “আবার এর বিরুদ্ধেও বলতে লাগবে। শুক্রবার করে নমাজ পড়ব আর বলব, এ যত তাড়াতাড়ি পৃথিবী থেকে বিদায় হয়ে যায়, উপরওয়ালা যেন ওকে যেন টিকিট কাটিয়ে দেয়…এর এত অহঙ্কার। অহঙ্কারের পতন হবে। এঁকে একই ভাবে পৃথিবী ছেড়ে যেতে হবে।”
হুমায়ুনের মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “হুমায়ুন সাহেব যতই চান না কেন, মুখ্যমন্ত্রীর কেশাগ্র পর্যন্ত কিছু হবে না। বাংলার মানুষের আশীর্বাদ মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুবাবুর সঙ্গে আছে।”
আরও পড়ুন: পেট্রোল লাগবেই না, ১০০% ইথানলেই ছুটবে গাড়ি, খরচ লিটারে ২৫ টাকা, ঘোষণা নিতিন গডকড়ীর
রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, “অসভ্য! অসভ্য! ওর বোধহয় মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটেছে। চিকিৎসা করানো উচিত বাডির লোকেদের। রাজনীতির ময়দানে এসব কথা আজ পর্যন্ত কেউ শুনেছে বলে জানি না। আমরা আবার প্রার্থনা করছি যে, আমাদের যে আয়ু আছে সকলের, অন্তত বয়োজ্যেষ্ঠদের, তা যেন আমাদের প্রিয় শুভেন্দু অধিকারী পেয়ে যান। উনি পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের জন্য কাজ করুন।”
অতি সম্প্রতিই হুমায়ুনের বিরুদ্ধে বহরমপুর থানায় আর একটি অভিযোগ দায়ের হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে ভোট লুঠের অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। রেজিনগর থানার সামনে ধর্নায়ও বসে পড়েন। হুমায়ুনের বক্তব্য ছিল, ‘যারা AJUP-কে ভোট দেবে বলছে, তাদের বলছে ভোট দিতে হবে না। তোলা সরে যা। আমরা ঠিকা নিয়েছি, ভোট লুঠ করব। এসব দালাল অফিসারদের অবিলম্বে চেয়ার থেকে সরিয়ে…রেজিনগর বিধানসভার মানুষ যাতে পছন্দের প্রার্থীকে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, তার ব্যবস্য়তা করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।” এবার শুভেন্দুকে নিয়ে মন্তব্যে অভিযোগ দায়ের হল হুমায়ুনের বিরুদ্ধে।