কাকদ্বীপ : অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে সুন্দরবনের উন্নয়ন, একাধিক বিষয়ে কাকদ্বীপ থেকে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকের পর কাকদ্বীপ স্টেডিয়ামে সভা করেন তিনি। সেখান থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন ও টাকা দেওয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন তিনি। সুন্দরবনের উন্নয়ন নিয়েও একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্নপূর্ণা যোজনা
প্রতিমাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পান মহিলারা। জুন মাস থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে। আবেদন যাচাইয়ের পর্ব যত এগিয়েছে তত বেড়েছে প্রাপকের সংখ্যা। এখনও যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি, তাঁরা মুখিয়ে আছেন সরকার কবে সুখবর দেয়। শনিবার অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে কাকদ্বীপের সভা থেকে বিশেষ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় এই প্রকল্পের জন্য ১৩ লক্ষ ৬ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ মহিলার কাছে ইতিমধ্যেই প্রকল্পের টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
মহিলাদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েও ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আয়ুষ্মান ভারত এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমার মাধ্যমে দেশের ৩৮ হাজার হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন সকলে।
সুন্দরবনের উন্নয়নে কী ঘোষণা
সুন্দরবনকে উন্নয়নের মূলস্রোতে নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকার সুন্দরবনের উন্নয়নের জন্য ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও তার মধ্যে মাত্র ২০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। বাকি টাকার ৮০ শতাংশ চুরি হয়েছে বলেও অভিযোগ পূর্বতন সরকারকে নিশানা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর মনে করিয়ে দেন, বর্তমান সরকার আট মাসের বাজেটে সুন্দরবনের জন্য ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। প্রথম দফায় ৫৫৩টি কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে । তাঁর কথায়,সরকারি প্রকল্পগুলির মাধ্যমে এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উন্নত পরিষেবা পাবেন। এছাড়া তিনি জানান, এই জেলার গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানের করে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।
২০২৯ সালে মুড়িগঙ্গা সেতুর উদ্বোধনের প্রতিশ্রুতি
মুড়িগঙ্গা নদীর উপর সেতু নির্মাণ নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ভূমিকার নিন্দা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার এই সেতু নিয়ে মিথ্যাচার করেছে। ২০২৯ সালে মুড়িগঙ্গা সেতুর উদ্বোধন করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সুন্দরবনের দ্বীপগুলিকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত সহজ হবে। সুন্দরবনকে একটি মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি। দু’বছর পরে হলেও কাকদ্বীপকে জেলা করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
নতুন জব কার্ডে ১২৫ দিনের কাজ
কর্মসংস্থান নিয়েও একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, নতুন জব কার্ড তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি, পুরনো জব কার্ড থাকা ব্যক্তিরাও ১২৫ দিনের কাজ পাবেন বলে জানান তিনি। এই কাজের জন্য প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এক বছরের মধ্যে এক লক্ষ চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই চাকরি দেওয়া হবে। পাশাপাশি,বাল্যবিবাহ রোধে কড়া বার্তা দিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পরও মেয়েদের কলেজে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার উপর জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। কলেজে পড়ার জন্য তিন বছরে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন শুভেন্দু অধিকারী।
আবাস যোজনার টাকা বণ্টন নিয়েও আগের সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, বাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্ম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এমনকী, গোয়ালঘর দেখিয়ে বাড়ি তৈরির টাকা লুঠ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার আবাস যোজনার আওতায় যোগ্য উপভোক্তাদের বাড়ি তৈরি করে দেবে। পাশাপাশি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর যাঁরা অত্যাচারের শিকার হয়েছিলেন, তাঁদের নতুন করে এফআইআর করার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে এবং দোষীদের কাউকে ছাড়া হবে না।
সবমিলিয়ে কাকদ্বীপের সভা থেকে অন্নপূর্ণা যোজনায় আর্থিক সহায়তা, সুন্দরবনের উন্নয়নে বরাদ্দ, মুড়িগঙ্গা সেতুর সময়সীমা, কর্মসংস্থান এবং মেয়েদের শিক্ষাকে সামনে রেখে একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী।