কলকাতা : ঋতব্রত তৃণমূলের ১০ জন বিদ্রোহী বিধায়কদের ভবিষ্যৎ ঝুলে রইল এখনও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী তৃণমূলের করা মামলাটি হাইকোর্টে পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট । দীপাবলির ছুটির পর এই মামলা শুনবে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম-সহ ১০ জন বিধায়কের বিধায়কপদ খারিজের আবেদন নিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুগামী তৃণমূল শিবিরের নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার এই মামলা শোনার কথা ছিল শীর্ষ আদালতের। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই মামলায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না।
সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, তিনি যেন এই মামলার জন্য একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন এবং মামলার শুনানি যাতে দ্রুত করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) একটি আবেদনেনটি শুনতে চায়ন। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমসহ ১০ জন দলত্যাগী বা ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কদের পদ খারিজের (Disqualification) বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু তা শুনতে চায়নি শীর্ষ আদালত।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়,সন্দীপন সাহা প্রথম বেরিয়ে আসেন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে। তারপর সেই গোষ্ঠীতে একে একে নাম লেখান ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায়, রথীন ঘোষ সহ একাধিক বিধায়ক। দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-Defection Law) অনুযায়ী , ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, আখরুজ্জামান, বিপ্লব মিত্র, সন্দীপন সাহা, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায়, জাভেদ খান, রথীন ঘোষ, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা – এই ১০ জন বিধায়কের পদ খারিজের দাবি জানিয়ে গত ৮ জুলাই স্পিকারের কাছে আবেদন করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যা তৃণমূল কংগ্রেস। আইনি নিয়ম মেনে ৩ মাস অর্থাৎ ৮ অক্টোবরের মধ্যে স্পিকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা থাকলেও কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার আদালতে তৃণমূলের আইনজীবী সওয়াল করেন যে, আবেদন জমা পড়ার পর প্রায় পাঁচ মাস কেটে গেলেও বিধানসভার স্পিকার কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে শুনানির সময় বিচারপতি জানান, আমরা পরিস্থিতি বুঝতে পারছি, কিন্তু লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য মামলাকারীদের টপকে আপনি সরাসরি এখানে আইনি লড়াই চালাতে পারেন না।