সৌভিক মজুমদার, আশাবুল হোসেন ও শিবাশিস মৌলিক, কলকাতা: জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে করা বিরোধীদের পিটিশন থেকে দিল্লিতে আন্দোলনের দিন ট্রেন-মেট্রো বন্ধ রাখা অথবা আন্দোলনকারীদের নির্যাতনের অভিযোগ। গত কয়েকদিনে দায়ের হওয়া একগুচ্ছ মামলার শুনানি সুপ্রিম কোর্টে হওয়ার কথা বৃহস্পতিবার। সর্বোচ্চ আদালত এসব মামলায় কী নির্দেশ দেবে, সেদিকেই এখন সবার নজর।

আরও পড়ুন,জ্ঞানেশকাণ্ডে তপ্ত দিল্লি, যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ, গ্রেফতার ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা

বৃহস্পতিবার পঞ্চমী। তবে দুর্গাপুজোর পাশাপাশি এইদিন সবার নজর থাকবে সুপ্রিম কোর্টের দিকে। কারণ, জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও দিল্লির আন্দোলন সংক্রান্ত একগুচ্ছ মামলার শুনানি রয়েছে সেখানে। এর মধ্য়ে অন্য়তম হল বিরোধী-ইলেভেন, অর্থাৎ ১১ জন বিরোধী নেতা-নেত্রীর করা মামলা। মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অবধি মিছিল করেছিলেন রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী নেতারা। এরপর সুপ্রিম কোর্টে পিটিশনও করেন রাহুল গান্ধী, সৌগত রায়, এম এ বেবি, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব-সহ ১১ জন বিরোধী নেতা। পিটিশনে পক্ষ করা হয় জাতীয় নির্বাচন কমিশন মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশী এবং সুখবীর সিং সানধুকে। সেই পিটিশনে ১০টিরও বেশি ত্রুটি থাকায়, ভুল শুধরে ফের পিটিশন দাখিল করতে বলল সুপ্রিম কোর্ট।

 সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি হতে পারে বৃহস্পতিবার। সেই সঙ্গে রয়েছে আরও একাধিক মামলার শুনানি। ১০ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচির আগে দিল্লিকে দুর্গে পরিণত করা হয়েছিল। মেট্রো-রেল স্টেশন বন্ধ করে, একাধিক রাস্তায় ব্যারিকড করে দিয়েছিল পুলিশ। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছিলেন, ১০ অক্টোবরে ট্রেন-মেট্রো পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না। কিন্তু সেই নির্দেশ দিল্লি পুলিশ পুরোপুরি মানেনি বলে অভিযোগ। এনিয়ে যে মামলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার তার শুনানি হওয়ার কথা। এছাড়া ১০ অক্টোবর বহু প্রতিবাদীকে আটক করা হয়। আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এরকম একগুচ্ছ ঘটনা নিয়ে অন্তত ১২টি পিটিশন দায়ের হয় সুপ্রিম কোর্টে।
 
বৃহস্পতিবার এই মামলাগুলিরও শুনানি হতে পারে।সুপ্রিম কোর্টে আলাদা একটি মামলা করা হয় ‘মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য নির্বাচন কমিশনার আইন, ২০২৩’-এর ১৬ নম্বর ধারাটিকে চ্যালেঞ্জ করে। এই ধারাটি মূলত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অপর দুই নির্বাচন কমিশনারকে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময়ে করা কোনও কাজের জন্য আইনি রক্ষাকবচ দিয়ে থাকে। এই মামলাটিও বৃহস্পতিবার শুনানির জন্য উঠবে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে। মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্য়াগের দাবিতে উত্তাল হয়ে রয়েছে দিল্লি। এনিয়ে মাটি কামড়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বিরোধীরা। মোদি সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে নিত্য় নতুন কৌশল নিচ্ছেন তাঁরা। এই আবহে পঞ্চমীতে সুপ্রিম কোর্ট কি এই মামলাগুলি শুনে কোনও নির্দেশ দেবে? সেদিকেই আপাতত সবার নজর। 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *