কলকাতা: পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে কয়েকশো একর সরকারি জমির চরিত্র বদলে, জাল নথি বানিয়ে বিক্রির অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে CID-র ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখিও হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক। সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আর্জি খারিজ করতেই, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে সুমিত রায়কে গ্রেফতার করে CID. এরপর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২ প্রাক্তন PSO ও সুজয় হাজরার গাড়ির চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে সিআইডি কর্তাদের হাতে। সুমিত-সুজয়ের আর্থিক লেনদেনের তথ্য উঠে আসে। জানা যায়, সুমিত রায়ের অফিসে টাকা পাঠাতেন সুজয় হাজরা। কিন্তু প্রশ্ন, কীভাবে কাজ করত সুজয় হাজরা-সুমিত রায়ের চক্র ? 

কীভাবে কাজ করত সুজয় হাজরা-সুমিত রায়ের চক্র ? 

সুমিত রায়কে গ্রফতার করার পর CID-র তরফে পেশ করা হয় চার্জশিট। আর এই চার্জশিটে টাকা লেনদেন নিয়ে একের পর এক ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে এসেছে। CID-র তরফে পেশ করা চার্জশিটে ‘মোডাস অপারেন্ডি’র উল্লেখ করা হয়েছে। জানা যায় যে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই সমস্ত সরকারি জমি চাষের কাজে উদ্বাস্তু মানুষদের দেওয়া হয়েছিল। ২০২১ সাল থেকে এইসমস্ত সরকারি জমিকেই ব্যক্তিগত মালিকানাধীন বলে দাবি করা হয়। জোর করে জমি খালি করে দিতেও বাধ্য করা হয় অনেককে। যাদের নামে মালিকানা রয়েছে বলে চুক্তিপত্রে উল্লেখ, সেই ঠিকানায় কোনও ব্যক্তির অস্তিত্বই নেই বলে অভিযোগ। CID-র দায়ের করা চার্জশিটে এই ধরনের দুর্নীতির একের পর এক বিস্ফোরক তথ্যের উল্লেখ রয়েছে। 

আরও পড়ুন – সুমিত রায়ের অফিসে টাকা পাঠাতেন কে ? দুর্নীতির টাকা কোথায় যেত ? জমি জালিয়াতিকাণ্ডে বড় তথ্য় CID-র হাতে

শালবনি জমি-দুর্নীতি মামলার কিনারা করতে সুমিত রায়ের পর এবার CID-র ‘হাতিয়ার’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২ প্রাক্তন পার্সোনাল সিকিওরিটি অফিসার বা PSO-র বয়ান। কারণ, শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায়, মেদিনীপুর আদালতে যে চার্জশিট পেশ করা হয়েছে, সেখানে সাক্ষীর তালিকায় রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২জন প্রাক্তন পার্সোনাল সিকিউরিটি অফিসার বা PSO-সহ মোট ২০ জন। তালিকায় রয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতারাও। এমনকী সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরার গাড়ির চালকেরও।

শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় দোসরা সেপ্টেম্বর মেদিনীপুর আদালতে চার্জশিট জমা দেয় CID. যেখানে মোট ২০ জন সাক্ষীর নাম রয়েছে। যাঁদের বয়ান রেকর্ড করেছেন CID-র তদন্তকারীরা। চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, সাক্ষীদের মধ্যে অন্যতম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২ প্রাক্তন PSO ও সুজয় হাজরার গাড়ির চালকের বয়ান থেকে জানা গেছে, দুর্নীতির টাকার ভাগ পৌঁছে যেত সুমিত রায়ের কাছেও। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়কের অফিস পর্যন্ত সেই টাকা পৌঁছে দিতেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক। চার্জশিটে CID-র তরফে দাবি করা হয়েছে, এই সংক্রান্ত মামলায় আরও ২ ব্যবসায়ীরও সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। CID-র দাবি, বয়ানে ২ ব্যবসায়ীই জানিয়েছেন সুমিত রায় ও সুজয় হাজার টাকা লেনদেনের বিষয়টি চাক্ষুষ করেছেন তাঁরা। কিন্তু ভয়ে ওই বিষয়ে মুখ খুলতে পারেননি। 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *