কলকাতা : চিনির দাম নিয়ে কপালে ভাঁজ সাধারণ মানুষের। যে হারে লাফিয়ে বাড়ছে চিনি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের,তাতে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণের। এই আবহেই সোমবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন দাম বাড়ছে, কোথায় ‘গলদ’সেই ফাঁকটা ধরে ফেলেছেন তিনি। সেই সঙ্গে তিনি কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন। লাগামছাড়া দাম আটকাতে, বেআইনি মজুতদারি রুখতে, এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল রাজ্য । অ্যাকশনে নামল ইবি।
মঙ্গলবার কলকাতার একাধিক বাজারে অভিযান চালালেন এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের (EB) আধিকারিকরা। মানিকতলা বাজার-সহ খাস কলকাতার বিভিন্ন বাজারে চাল, ধান, চিনি-সহ একাধিক অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান,চড়া দাম রুখতে কড়া অ্যাকশন হবে। তারপরই বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মজুতদারি বা কালোবাজারি রুখতেই এই অভিযান। বিশেষ করে চিনির দাম কেন বাড়ছে, কোথায় সরবরাহে সমস্যা তৈরি হচ্ছে এবং কোনও ধরনের অনিয়মের কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
‘২-৩ দিনের মধ্যেই চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে’
সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, চিনির দাম আগামী ২-৩ দিনের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তাঁর দাবি, চিনির দাম বৃদ্ধির পিছনে থাকা ‘লিকেজ’ বা সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যার জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রশাসনের নজরে রয়েছে, সরবরাহ ব্যবস্থার ঠিক কোন পর্যায়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছে এবং কোথাও কালোবাজারি বা বেআইনি মজুত করা হচ্ছে কি না। তার জন্যই দাম বাড়ছে কি না, কোথাও বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে কি না, নজর রাখা হচ্ছে।
মজুতদারি এবং কালোবাজারি ঠেকাতে রাজ্যজুড়ে টাস্ক ফোর্সকে ফের সক্রিয় করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, ৭২টি সাব-ডিভিশন এবং ৩৫টি পুলিশ কমিশনারেট স্তরে এই টাস্ক ফোর্স কাজ করবে। বাজারে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের জোগান, মজুত এবং বিক্রির দামের উপর নজরদারি চালানো হবে। কোথাও অস্বাভাবিক দাম বা মজুতদারির অভিযোগ সামনে এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবান্নের নির্দেশের পরই কলকাতার বিভিন্ন বাজারে অভিযান শুরু হয়েছে ইবি-র। মানিকতলা বাজার-সহ একাধিক বাজারে পৌঁছে গিয়েছেন এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা। চাল, ধান, চিনি-সহ বিভিন্ন অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের মজুত ও বিক্রির দাম খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, নির্দেশ অনুসারে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত অস্বাভাবিক কিছু নজরে আসেনি। প্রশাসনের লক্ষ্য, সরবরাহ ব্যবস্থায় কোথাও কোনও ‘লিকেজ’ থাকলে তা চিহ্নিত করে দ্রুত বন্ধ করা। একইসঙ্গে ব্যবসায়ীরা যাতে কৃত্রিমভাবে পণ্য মজুত করে বাজারে দাম বাড়াতে না পারেন, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
বাজারদর নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ক্রেতাদের সচেতনতা বাড়াতেও উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ পালন করা হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।