কলকাতা: ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে এবং দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে গত বুধবার ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। এবার তাঁকে নিয়ে মুখ খুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সন্তান। ‘কৃতকর্ম’ বলে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। ‘তৃণমূল জমানায় দাপট বেড়েছিল, এবার মিলবে পাপের ফল’, বললেন সুচেতন ভট্টাচার্য। 

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই বরাবর পরিচিত ছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। তবে শুধু তৃণমূল নয়, এর আগে সিপিএমের সঙ্গেও প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী ও সঙ্গীতশিল্পীর যে ঘনিষ্ঠতা ছিল, সে বিষয়ে গত বুধবার তাঁর গ্রেফতারির পর মনে করালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পর এবার ইন্দ্রনীলকে নিয়ে মুখ খুললেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সন্তান।  ইন্দ্রনীলকে ‘ভয়ঙ্কর’ বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন। সুচেতন ভট্টাচার্য বলেন, ‘আজকের পরিণতি থেকে আমার আনন্দ হচ্ছে। শুধু আমার নয়, আমার মনে হয়, অনেকের আনন্দ হচ্ছে। ক্ষমতার প্রায় শীর্ষে গিয়ে অনেকের সঙ্গে অনেক অন্যায় করেছেন। 

আরও পড়ুন – ‘আমার যাবার সময় হল…’, ইন্দ্রনীল গ্রেফতার হতেই মমতার নাম করে গান ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী, কী জানালেন ?
 
CPM-এর সঙ্গে ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠতা এবং  বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে মুখ খোলেন সুচেতন ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট বলেন, ”কলেজ পাশ করার পর একজন পত্রিকার সম্পাদক, উনি আমাকে বলেন প্রাইম মিউজিকে, যার ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইন্দ্রনীল সেন, বাঙালি প্রতিষ্ঠান, তুমি যদি জয়েন করো। তারপর যুক্ত হই সেখানে। অনেক ভালো কাজ ওখান থেকে করার চেষ্টা করেছি। ভদ্রলোক সেই সুবাদে, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ বলে রটিয়ে বেরিয়েছেন। ইন্দ্রনীল সেন কখনও বাবার সঙ্গে এক গাড়িতে উঠেছেন? আমার বাড়িতে কোনদিন ঢুকতে পেরেছেন? উনি কতটা ভয়ংকর, উনি অত্যন্ত অসভ্য । একজন গায়িকার গানের রেকর্ডিং হয়েছিল। সেখানে মিউজিসিয়ানদের পেমেন্ট পর্যন্ত করা হয়নি। আমি একজন কর্মচারী। ব্যাংক থেকে টাকা বের করে , আমার টাকা দিয়ে মিউজিশিয়ানদের পেমেন্ট হয়। ”

তিনি আরও বলেন, ”বাম আমলে সেভাবে কোনও দাপট ছিল না। তৃণমূল জামানায় দাপুটে পোনা দেখাচ্ছিলেন। পাপের কৃতকর্মের ফল অনুভব করবেন এবার। পাপের কৃতকর্ম যেন উনি ভোগ করেন। আমি তখন মুখ্যমন্ত্রীর সন্তান। কোনও প্রভাব খাটাই নি। আমার মাইনে ছিল ১২ হাজার। ২০১৩ তে যখন রেজিগনেশন দিই, মাইনে তখন ১৭ হাজার! টিডিএস কেটে ১৫,৩০০ হতো।  যখন আমি পদত্যাগ পত্র দিই, তখন রিসিভ পর্যন্ত করা হয় নি। জাস্ট নিয়ে নেওয়া হয়েছিল।  ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন। অপেক্ষা করছি। অথচ, প্রয়োজন বোধ করেনি, ঘন্টার পর ঘন্টা বাইরে বসিয়ে রেখেছিল। কতটা অপমানজনক। আমি চাকরি করার পরেও বাম আমলে ইন্দ্রনীল সেন কি হনু হয়ে উঠেছিলেন? ইতিহাস আছে।  তার পরিণতি থেকে আমার আনন্দ হচ্ছে। শুধু আমার নয়, আমার মনে হয়, অনেকের আনন্দ হচ্ছে।  উনি হনু হয়ে ক্ষমতার প্রায় শীর্ষে চলে গিয়ে উচ্চ পদে থেকে অনেক লোকের সঙ্গে অনেক অন্যায় করেছেন। আমার সঙ্গেও।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *