শিবাশিস মৌলিক ও অনির্বাণ বিশ্বাস, কলকাতা : সপরিবারে বিজেপি অফিসে গিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনশলের সঙ্গে দেখা করলেন তারক সিং। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ ও বর্তমানে ঋতব্রত তৃণমূলের ওই নেতার দাবি, তাঁর পরিবারের ওপর দেওয়া মিথ্যে মামলা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি পুরভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়েও উস্কে দিয়েছেন জল্পনা।
রাজ্য রাজনীতিতে নতুন চমক। রবিবার ভরদুপুরে আচমকা রাজ্য বিজেপির দফতরে দেখা গেল ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এর তারক সিংকে। ছেলে-মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে সপরিবারে দেখা করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনশলের সঙ্গে। তারক সিংয়ের দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে যেভাবে মিথ্যে মামলা দেওয়া হচ্ছে, বদনাম করার চেষ্টা চলছে, সেইসব অভিযোগ জানাতেই তিনি দেখা করেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা ও রাজ্য বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের সঙ্গে।
প্রাক্তন মেয়র পারিষদ (‘ঋতব্রত-তৃণমূল’) তারক সিং বলেন, “আমি এসেছিলাম এখানে যে আমাদের অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের প্রবলেম হচ্ছে, বিশেষ করে আমাদের ফ্যামিলির ওপরে মিথ্যে মামলা দেওয়া হচ্ছে। রোজ কিছু না কিছু সোশাল মিডিয়ায় আজেবাজে কথা বলছে। বনশলজির সাথে দেখা করে ওঁকে অভিযোগটা জানিয়ে গেলাম আমরা। উনি বলেছেন আমরা এটা এনকোয়ারি করে দেখে যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেব।”
তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, এটা তো আপনি পুলিশকেও জানাতে পারতেন…। তার উত্তরে তারক সিং বলেন, “পুলিশকেও জানানো হয়েছে। পুলিশ অ্যাকশন নিলে আমি এখানে আসব কেন?”
একসময় পরিচিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসাবে। তৃণমূল আমলে কলকাতা পুরসভার ১১৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলরের পাশাপাশি সামলেছিলেন মেয়র পারিষদ নিকাশির দায়িত্বও। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর কালীঘাট-তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এ নাম লেখান তারক সিং। এই আবহেই, পুরভোটের মুখে তারক সিংয়ের বিজেপি দফতরে যাওয়ার পিছনে কী রয়েছে নতুন কোনও ইঙ্গিত ?
যে সময় তারক সিং বিজেপির অফিসে গিয়েছিলেন, সেই সময় সেখানে ছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। তিনি বলেন, “এই বিষয়টা তো সুনীল বনশল দেখবেন না। এই বিষয়টা রাজ্যের যিনি পুলিশমন্ত্রী তিনি দেখবেন।”
তৃণমূল আমলে কার্যত সপরিবারে জোড়াফুলের জনপ্রতিনিধি ছিলেন তারক সিং। তিনি নিজে ছিলেন কলকাতা পুরসভার ১১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর । তারক সিংয়ের ছেলে অমিত সিং কলকাতা পুরসভার ১১৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর। তাঁর মেয়ে কৃষ্ণা সিং ছিলেন কলকাতা পুরসভার ১১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর। এদিন তিনজনেই গিয়েছিলেন বিজেপির দফতরে। যা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে জল্পনা।
রাজ্য বিজেপির সভাপতি বলেন, “এখন যদি কেউ সপরিবারে আসে, তিনি আসবেন। আমরা তো রাজনৈতিক অস্পৃশ্যতায় বিশ্বাস করি না। আসবেন, বসবেন, চা খাবেন, কোনও অসুবিধা হলে বলবেন। কিন্তু ওই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।”
কলকাতা পুরসভার আসন্ন ভোটে কি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন প্রাক্তন মেয়র পারিষদ তারক সিং ? তা নিয়ে আগেই ইঙ্গিতপূর্ণ উত্তর দিয়েছিলেন তিনি।
তিনি বলেছিলেন, “কার হয়ে দাঁড়াব, এটা আমি এখনও ঠিক করিনি। তবে আমি মমতাপন্থী তৃণমূলের হয়ে দাঁড়াব না। মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে দল করব না। তার থেকে মৃত্যু হলে হবে।”
এদিন অবশ্য নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি তারক সিং। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, সিং পরিবারের ভোটের প্রস্তুতি কীরকম ? তার উত্তরে প্রাক্তন মেয়র পারিষদ (‘ঋতব্রত-তৃণমূল)’ বলেন, “সিং পরিবারের তো ভোট হয় না, ভোট হয় পলিটিক্যাল পার্টি থেকে আর না হলে নিজস্ব নির্দল হয়ে। সেটা ভেবে দেখব।”
একদিকে ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’, অন্যদিকে বিজেপির সদর দফতরে হাজিরা। পুরভোটের আগে কি ফের বদলাবে সিং পরিবারের রাজনৈতিক ঠিকানা ? নাকি অভিযোগ জানানোতেই থেমে থাকবে এই সাক্ষাৎ?