কলকাতা: শালবনি জমি জালিয়াতি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে সুমিত রায়কে গ্রেফতার করে CID. কয়েকশো একর সরকারি জমির চরিত্র বদলে, জাল নথি বানিয়ে জমি বিক্রির অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে CID-র ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েন অভিষেকের আপ্ত সহায়ক। তারপর গ্রফতার হন তিনি। এবার সিআইডির জালে আরও ২। 

সুমিত রায়ের গ্রফতারির পর সিআইডি নজরে আরও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২ প্রাক্তন PSO ও সুজয় হাজরার গাড়ির চালক। এর মাঝে শালবনি জমি জালিয়াতির মামলায় আরও গ্রেফতার। নিত্য রায়, লক্ষ্মী ভুঁইয়া নামে আরও ২জনকে গ্রেফতার করল সিআইডি। জানা যায় এই দুজনেই সুজয়-সিন্ডিকেটের সদস্য। এখনও পর্যন্ত শালবনিকাণ্ডে সুজয়, সুমিত-সহ মোট ৬জন গ্রেফতার করল সিআইডি। 

আরও পড়ুন – কীভাবে জমি দুর্নীতি চলত ? কীভাবে কাজ করত সুজয় হাজরা-সুমিত রায়ের চক্র ? উল্লেখ CID-র চার্জশিটে

সিআইডির চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সুমিতের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে মোট সাত কোটি টাকা জমা পড়েছে। এই টাকা কোথা থেকে এসেছে, উৎস কী, সিআইডিকে তা জানাতে পারেননি সুমিত রায়। সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আর্জি খারিজ করতেই, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে সুমিত রায়কে গ্রেফতার করে CID. এরপর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২ প্রাক্তন PSO ও সুজয় হাজরার গাড়ির চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে সিআইডি কর্তাদের হাতে। সুমিত-সুজয়ের আর্থিক লেনদেনের তথ্য উঠে আসে। জানা যায়, সুমিত রায়ের অফিসে টাকা পাঠাতেন সুজয় হাজরা। 

শালবনি জমি-দুর্নীতি মামলার কিনারা করতে সুমিত রায়ের পর এবার CID-র ‘হাতিয়ার’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২ প্রাক্তন পার্সোনাল সিকিওরিটি অফিসার বা PSO-র বয়ান। কারণ, শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায়, মেদিনীপুর আদালতে যে চার্জশিট পেশ করা হয়েছে, সেখানে সাক্ষীর তালিকায় রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২জন প্রাক্তন পার্সোনাল সিকিউরিটি অফিসার বা PSO-সহ মোট ২০ জন। তালিকায় রয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতারাও। এমনকী সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরার গাড়ির চালকেরও।

কীভাবে জমি-দুর্নীতি চলত ? 

সুমিত রায়কে গ্রফতার করার পর CID-র তরফে পেশ করা হয় চার্জশিট। আর এই চার্জশিটে টাকা লেনদেন নিয়ে একের পর এক ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে এসেছে। CID-র তরফে পেশ করা চার্জশিটে ‘মোডাস অপারেন্ডি’র উল্লেখ করা হয়েছে। জানা যায় যে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই সমস্ত সরকারি জমি চাষের কাজে উদ্বাস্তু মানুষদের দেওয়া হয়েছিল। ২০২১ সাল থেকে এইসমস্ত সরকারি জমিকেই ব্যক্তিগত মালিকানাধীন বলে দাবি করা হয়। জোর করে জমি খালি করে দিতেও বাধ্য করা হয় অনেককে। যাদের নামে মালিকানা রয়েছে বলে চুক্তিপত্রে উল্লেখ, সেই ঠিকানায় কোনও ব্যক্তির অস্তিত্বই নেই বলে অভিযোগ। CID-র দায়ের করা চার্জশিটে এই ধরনের দুর্নীতির একের পর এক বিস্ফোরক তথ্যের উল্লেখ রয়েছে। 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *