নয়া দিল্লি: দেশের মেরুদণ্ড কৃষকরাই। আর সেই কৃষকদের আয় ও আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হল প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি বা PM-KISAN। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু হওয়া এই প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়। কৃষিকাজ, কৃষি-সহায়ক কার্যকলাপ এবং পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে যোগ্য জমির মালিক কৃষক পরিবারকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
আরও পড়ুন: দেশের ৮১ কোটির বেশি মানুষের খাদ্য সুরক্ষায় বিনামূল্যে রেশন, কারা পাবেন?
বছরে ৬ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা
PM-KISAN-এর আওতায় যোগ্য কৃষক পরিবার বছরে মোট ৬ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পান। এই অর্থ একবারে দেওয়া হয় না। চার মাস অন্তর ২ হাজার টাকা করে তিনটি সমান কিস্তিতে টাকা পাঠানো হয়।
কবে কোন কিস্তি?
প্রথম কিস্তির সময়সীমা ১ এপ্রিল থেকে ৩১ জুলাই। দ্বিতীয় কিস্তি ১ অগস্ট থেকে ৩০ নভেম্বর এবং তৃতীয় কিস্তি ১ ডিসেম্বর থেকে পরের বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
আরও পড়ুন: উজ্জ্বলা যোজনায় মহিলাদের বিনামূল্যে এলপিজি সংযোগ! কারা পাবেন সুবিধা, কীভাবে করবেন আবেদন?
সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা
PM-KISAN-এর টাকা ডিরেক্ট বেনেফিট ট্রান্সফার (Direct Benefit Transfer) বা DBT-এর মাধ্যমে সরাসরি উপভোক্তার আধার সিডেড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। Aadhaar ভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে এই অর্থ হস্তান্তর করা হয়।
সর্বশেষ কিস্তির তথ্য
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, PM-KISAN-এর ২৩তম কিস্তি ২০ জুন ২০২৬-এ প্রকাশ করা হয়েছে। ওই কিস্তিতে প্রায় ১৮ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা প্রায় ৯ কোটি ৪৪ লক্ষ কৃষকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
কারা PM-KISAN-এর সুবিধা পাবেন?
প্রকল্পের আওতায় মূলত এমন ছোট ও প্রান্তিক কৃষক পরিবারকে লক্ষ্য করা হয়, যাঁদের নামে চাষযোগ্য জমি নথিভুক্ত রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট বর্জন-নীতির আওতায় পড়া ব্যক্তি বা পরিবার এই সুবিধা পাবেন না। যোগ্য কৃষকদের চিহ্নিত ও যাচাই করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনের উপর রয়েছে। তাঁদের যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতেই সুবিধাভোগীর তালিকা তৈরি করা হয়।
অনলাইনে কী কী করা যায়?
কৃষকরা সরকারি PM-KISAN পোর্টালের মাধ্যমে নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন। পাশাপাশি নিজের beneficiary payment status পরীক্ষা এবং বাধ্যতামূলক e-KYC সম্পূর্ণ বা আপডেট করার সুবিধাও রয়েছে।
PM-KISAN-এর মাধ্যমে কৃষকদের হাতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বছরে ৬ হাজার টাকা করে তিন কিস্তিতে অর্থ প্রদান এবং DBT ব্যবস্থায় সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ফলে কৃষকদের আর্থিক সহায়তার একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হয়েছে। যোগ্য কৃষকদের জন্য রেজিস্ট্রেশন, e-KYC এবং কিস্তির স্ট্যাটাস অনলাইনে যাচাই করার সুবিধাও রাখা হয়েছে।