কলকাতা: প্রভাব খাটিয়ে ২০১২ থেকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ। অভিযুক্ত গোবরডাঙায় তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বিধাননগরের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর-পুত্রও। গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। কিন্তু অধরা গোবরডাঙার প্রাক্তন পুরপ্রধানের ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা।
অভিযোগ, প্রথমে মাদক খাইয়ে ধর্ষণ করা হয়, তারপর ভিডিও করে ব্ল্যাকমেল করে অভিযুক্তরা। এতদিন অভিযোগ জানাতে না পারলেও পালাবদলের পরে সাহস করে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।
এক গৃহবধূ অভিযোগ জানান যে, তাঁকে প্রায় ১৪ বছর ধরে এক ব্যক্তি, যে গোবরডাঙার বাসিন্দা, তিনি প্রভাব খাটিয়ে তৃণমূলের নেতা হিসেবে এলাকার প্রাক্তন পুরপ্রধানের ডান হাত বলে তাঁকে লাগাতার ধর্ষণ করে যাচ্ছিলেন। টানা ১৪ বছর ধরে ব্ল্যাকমেল করে এই কু-কাজ করে যাচ্ছিলো অভিযুক্ত। পরে সেই মহিলার বিয়ে হয়ে যায়। গোবরডাঙা থেকে বিধাননগরে আসার পরেও নিস্তার পাননি সেই মহিলা। এরপর, অভিযুক্তের সঙ্গে মিলিত হয়ে বিধাননগরের প্রাক্তন তৃণমূল মহিলা কাউন্সিলর-পুত্র বিপ্লব চক্রবর্তীও ব্ল্যাকমেল করে তাঁকে লাগাতার ধর্ষণ করেন। অক্টোবরের ৯ তারিখ এই ঘটনা নিয়ে গোবরডাঙা থানায় লিখিত অভিযোগ জানালেও পুলিশ প্রথমে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। যার ফলে প্রথম অভিযুক্ত হীরক বিশ্বাস পলাতক। এমনটা অভিযোগ, নির্যাতিতার পরিবারের। তবে কাউন্সিলর-পুত্র বিপ্লব চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি এখন পুলিশ হেফাজতে আছেন।
তবে ইতিমধ্যেই স্থানীয় বিধায়ক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন, তিনি যেন ঘটনাটি নিয়ে কড়া ব্যবস্থা নেন।
অভিযোগকারিণী কী জানালেন ?
ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন নির্যাতিতা। তিনি বলেন, ”নিজের ভয়ে ও যা বলতো আমি সেই ভাবেই চলতাম। বিয়ের পর ভেবেছিলাম মুক্তি পাব, কিন্তু পাইনি। সে আমায় প্রলোভন দেখায় তৃণমূলে যুক্ত হোতে। তৃণমূলে ঢুকলে উচ্চ পদের ব্যবস্থা করে দেব। ব্ল্যাকমেল করত, বলত, তোর ভিডিও ছড়িয়ে দেব, তুই শশুরবাড়িতেও থাকতে পারবি না, আর তোর ছেলেকেও কিডন্যাপ করে নেবো। একটা রাত বাইরে থাকলে তোকে আর তোর শশুরবাড়িতে গ্রহণ করবে না। আমি প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যাই, আমি ছেলেকে খুব ভালোবাসি। ছেলেকে কিডন্যাপ করে নিলে…বলে গোবরডাঙায় যে ভাবে চলত এখানেও চালা, কেউ কিছু জানতে পারবে না।”