সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়, উত্তরপাড়া: একেবারে স্বাভাবিকভাবেই চলছিল জীবন, হঠাৎ ধেয়ে এল কাদামাটি, জলস্তর। নেপালের ভূতকোশী নদীতে হিমাবহ বিস্ফোরণের ফলে কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে একাধিক জেলা, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এখনও আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ, তাঁদের এখনও কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। যে হতভাগ্যরা নেপালের হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন, তাঁরা শোক-পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারছেন না। আর যাঁরা সেই সময়ে সেখানে ছিলেন না, প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন.. তাঁরা যেন শিউরে উঠছেন। নেপাল থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে ফিরলেন উত্তরপাড়ার অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা অঞ্জনা সান্যাল। তাঁর বয়স ৬৯ বছর। যাওয়া হয়নি কৈলাস-মানস সরোবর, কিন্তু প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, আতঙ্ক কাটিয়ে, প্রয়োজন হলে ফের হেলিকপ্টারে করেও কৈলাস দর্শনে যাবেন তিনি।
রাস্তায় চা খেতে নেমেই পাওয়া গেল হড়পা বানের খবর, বাঁচল প্রাণ
কলকাতার একটি ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে, ১৭ জনের একটি দলের সঙ্গে গত ২৬ তারিখ কাঠমান্ডু থেকে চীনের ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন অঞ্জনা সান্যাল। রাস্তায় কিছুটি বিরতি নেওয়া হয়, দলের সবাই সেখানে চা খেতে নামেন। ঠিক সেই সময়েই বাসচালকের কাছে খবর আসে, ভূতকোশী নদীতে ভয়াবহ হড়পা বান এসেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে, চালক দ্রুত বাস ঘুরিয়ে কাঠমান্ডুর দিকে ফিরে যান। অঞ্জনা সান্যালের কথায়, ‘আমরা যখন বেরিয়েছিলাম, তখন আকাশ একেবারে পরিষ্কার ছিল। হঠাৎ কিছুটা দূরে ধোঁয়ার কুণ্ডলীর মতো দেখতে পাই। তারপর দেখি, নদীর জল মেঘের মতো নেমে আসছে। বুঝতে অসুবিধা হয়নি, বড় বিপদ হতে চলেছে। বাসচালক খুব তৎপরতার সঙ্গে বাস ঘুরিয়ে না নিলে আমরা হয়তো জ্যামে আটকে যেতাম। তখন আর ফেরার সুযোগ থাকত না।’
সতর্কতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পূর্ণার্থী
তিনি দাবি করেন, এই বিপর্যয়ের পরেও নেপাল পর্যাপ্ত সময় পেয়েছিল সতর্কতা জারি করার, কিন্তু চীনের তরফে আগাম তথ্য না পাওয়ায় বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘হিমবাহ ভেঙে পড়ার পরে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় ছিল। চীন যদি আগে থেকেই সতর্ক করত, তাহলে এত মানুষের মৃত্যু হত না।’ কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়ায় আক্ষেপের পাশাপাশি ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘কৈলাশ যেতে না পেরে ভেবেছিলাম কী পাপ করলাম, এত কাছে এসেও দর্শন হল না। আবার যখন প্রাণে বাঁচলাম, তখন মনে হল, নিশ্চয়ই কোনো পূণ্যের ফলেই নতুন জীবন পেলাম।’ আগামী বছর তাঁর বয়স ৭০ হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী স্থলপথে কৈলাস যাত্রার অনুমতি নাও মিলতে পারে। তবে তাঁর ছেলে হেলিকপ্টারে আকাশপথে কৈলাস দর্শনের কথা বলেছেন। অঞ্জনা সান্যালও জানিয়েছেন, সুযোগ পেলে সেইভাবেই আবার কৈলাস-মানস সরোবর যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।