নন্দীগ্রাম: ২০০৭ সালের মামলায়, গ্রেফতার করা হয়েছে, নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে। তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে হলদিয়া মহকুমা আদালত। রাজ্য় পুলিশের দাবি, উনিশ বছর ধরে পলাতক ছিলেন ধৃত কংগ্রেস নেতা। চার্জশিটেও তাঁকে পলাতক হিসাবে উল্লেখ করা হয়। এদিকে, মিলন প্রধানের গ্রেফতারির প্রতিবাদে, পার্কসার্কাসে প্রতিবাদ মিছিল করে কংগ্রেস।
আরও পড়ুন: উজ্জ্বলা যোজনায় মহিলাদের বিনামূল্যে এলপিজি সংযোগ! কারা পাবেন সুবিধা, কীভাবে করবেন আবেদন?
৬ অক্টোবর, নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। তার ঠিক ১৮ দিন আগে, গ্রেফতার করা হয়েছে, নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে। শুক্রবার বিকেলে, পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের একটি হোটেল থেকে, মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে, ২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম থানায় ৩ টি ও খেজুরি থানায় ১ টি মামলা হয়। সেখানে, খুন, খুনের চেষ্টা, খুনের উদ্দেশ্য়ে অপহরণ, প্রমাণ লোপাট ও অস্ত্র-আইনে মামলা রুজু হয়।
শনিবার মিলন প্রধানকে হলদিয়া আদালতে তোলা হলে, নন্দীগ্রামের ৩ টে মামলায়, ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। ২০০৭ সালে নন্দীগ্রামে যখন আন্দোলন শুরু হয়, তখন ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি বলে একটি অর্গানাইজেশনের মাধ্য়মে আন্দোলন হয় তার মধ্য়ে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা ছিল। কংগ্রেস, তৃণমূল ছিল। সেই সময় একাধিক মামলা হয়েছিল।
কংগ্রেস নেতা, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা হয়, নন্দীগ্রাম থানায় ৩০ এপ্রিল, ২০০৭ সালে। পরেরটি ২০০৭-এরই ৩০ জুলাই খেজুরি থানায়। এরপর, ওই বছরেরই ৮ নভেম্বর ও ১৫ নভেম্বর, নন্দীগ্রাম থানায় আরও ২ টি মামলা হয়। সেই সময় মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলছেন, “বিজেপি কি ভয় পেয়েছে? ২০০৭ সালের কেস। সেখানে তো এই কেসের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী, আমাদের সেই সময়ের নেতা শিশিরবাবু তিনি ছিলেন। সবার বিরুদ্ধে তো সেই সময় বহু কেস হয়েছে। শুভেন্দুবাবু সেই কেস থেকে
রেহাই পেলেন কী করে?”
বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী বলেন, “ভোটের আগে তো ঘোষণা করতে হয়, আমার কী কী মামলা আছে, না আছে, তারপরও যদি এঁরা এগুলো না করেন, তারপরে গ্রেফতার হয়ে গেলে, বিজেপির দোষ দেয়, এটা তো কাম্য বিষয় নয়।” জবাব দিয়েছে কংগ্রেসও। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, “সব উল্লেখ করেছেন। কোথাও কিছু লুকোননি। কোনও জিনিস কোথাও লুকোনোর বিষয় নেই।”
মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্য়াণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী যদি এত ভীত না হত, তাহলে এটা (মিলন প্রধান গ্রেফতার) করত না। শুভেন্দু অধিকারী জানে যে ভোট চুরি করে ও জিতেছে। শনিবার, দলীয় প্রার্থীকে হলদিয়া মহকুমা আদালতে তোলা হলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা।
রাজ্য় পুলিশের দাবি, উনিশ বছর ধরে পলাতক ছিলেন কংগ্রেস নেতা মিলন প্রধান। চার্জশিটেও মিলন প্রধানকে পলাতক হিসাবে উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে পুলিশের দাবি, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ, যাঁদের নামে ওয়ারেন্ট রয়েছে, তাঁদের ভোটের সময় গ্রেফতার করতে হবে। সেই মতো গ্রেফতার করা হয়েছে মিলন প্রধানকে। এদিন আদালতে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় সরকারি আইনজীবীকে।
আইনজীবী পবিত্র দাস বলেন, “বিচারক শুনানির সময় সরকারি আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন, ১৯ বছর পর ঘুম ভাঙল? 2024 সাল পর্যন্ত না হয় গ্রেফতারির স্টে ছিল। তারপরে কী করলেন? মনোনয়ন জমা দিল, তখন অ্য়ারেস্ট ওয়ারেন্ট কার্যকর করতে পারলেন না? নাকি কারও অঙ্গুলিহেলনের জন্য় অপেক্ষা করছিলেন?”
দলীয় প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেফতারির প্রতিবাদে, পার্কসার্কাসে প্রতিবাদ মিছিল করে কংগ্রেস। খেজুরি থানায় রুজু হওয়া মামলায়, সোমবার, কাঁথি আদালতে পেশ করা হবে মিলন প্রধানকে।