কলকাতা: শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করার পরই, নন্দীগ্রাম থেকে নিজের প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। ভোটে ভরাডুবি। বিদ্রোহ। ছন্নছাড়া দল।

এবার দুদিনে পর পরপর বড় ধাক্কা খেলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। ২৮ বছর আগে নিজে হাতে তৈরি দলের নাম, তার প্রতীক দুইই ফ্রিজ করে দিল নির্বাচন কমিশন। আপাতত নতুন দল ও নতুন প্রতীকে লড়তে হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা হল নন্দীগ্রাম উপ নির্বাচনের ভোট-যুদ্ধেই রইল না ‘কালীঘাট-তৃণমূল’। এ প্রসঙ্গেই এবার মুখ খুললেন শুভেন্দু অধিকারীর বাবা তথা বর্ষীয়ান রাজনীতিক শিশির অধিকারী। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে শিশির অধিকারী বলেন, ‘নিজের পরিবারকে উৎসাহিত করতে গিয়ে সর্বনাশ করেছেন। রাজনীতিতে মানুষের কথা বলতে হয়, নিজের কথা বললে সর্বনাশ হয়। দলকে শেষ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এখন আত্মসেবা শুরু করেছেন। প্রতীক ফেরাতে সুপ্রিম কোর্টে যান অথবা চন্দ্রযানে যান কোনও লাভ হবে না। আত্মসেবা যত বেশি হবে, তত দল ধ্বংস হবে’, নন্দীগ্রামে মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী পদ প্রত্যাহার নিয়ে আক্রমণ শিশির অধিকারীর। 

নামে উপ নির্বাচন। কিন্তু জায়গার নাম তো নন্দীগ্রাম। শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে যাওয়া আসনে ভোট। আর সেই ভোট ঘিরে প্রার্থী পদ প্রত্যাহার থেকে প্রার্থীকে গ্রেফতার..একের পর এক চমক। নন্দীগ্রামে তাঁর দলের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্য়াহার করে নেওয়ার পরই, মমতা বন্দোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, তিনি নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করবেন! এরপর ফের নাটকীয় মোড়, নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১ হাজার ৯৫৬ ভোট হারান বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬ এর বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামে তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করকে ৯ হাজার ৬৬৫ ভোটে হারিয়েছেন ফের জয়ী হন তিনি। অন্যদিকে ভবানীপুরে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল প্রার্থীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে হারিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এবারে নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের হয়ে প্রচারে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আজকে বলে গেলাম, এমন মার্জিনে নন্দীগ্রামে বিজেপি জিতবে যেটা কখনও কেউ কল্পনা করতে পারেননি। বাকিটা সময় কথা বলবে।’                                                             

 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *