কলকাতা: পুজোর পরেই অর্থাৎ নভেম্বরেই হতে পারে কলকাতা পুরসভার ভোট। তার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। কলকাতার পাশাপাশি পুরভোট হবে হাওড়াতেও। নতুন ওয়ার্ড বিন্যাস সংক্রান্ত চূড়ান্ত খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। ২০২৬-এর সংশোধনের ফলে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে ২০৯ হয়েছে। হাওড়া পুরসভাতে ওয়ার্ড সংখ্য়া ৫০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৮ করা হচ্ছে। কলকাতা ও হাওড়া দুই পুর এলাকা মিলিয়ে মোট ৮৩টি ওয়ার্ড বৃদ্ধি করা হয়েছে মঙ্গলবারই কলকাতা পুরসভায় ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক হয়। সরকারের তরফে বলা হয়, কলকাতা পুর-এলাকায় ১৫ থেকে ১৮ হাজার ভোটার পিছু এক-একটি বুথ তৈরি হবে। কিন্তু, এই পুনর্বিন্যাসে মোটেই খুশি নয় বিরোধী শিবির। গতকাল পুরসভায় সর্বদলীয় বৈঠকে একাধিক বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে তারা।

চলতি মাসের শুরুর দিকে বিধানসভায় আনা হয় কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা-সংক্রান্ত জোড়া সংশোধনী বিল। কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন আইন, ১৯৮০ সংশোধনের জন্য আনা হয় ‘কলকাতা মিউনিসিপ্যাল অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’। পাশাপাশি, হাওড়ার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের জন্য আনা হয় ‘হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’। এরপরই এই ২ পুরসভায় আসন পুনর্বিন্যাসের বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য সরকার। যা নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। 

আরও পড়ুন – ৬০ বছরের বেশি মহিলারা পাবেন বিনামূল্যে বাস পরিষেবা, বড় ঘোষণা এই রাজ্যের

বিরোধীদের বক্তব্য বিধানসভা ভোটের আগে, SIR-এ রাজ্যে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গেছে। প্রচুর মানুষ নতুন করে ভোটার লিস্টে নাম তোলার জন্য আবেদন করেছেন। বিরোধীদের প্রশ্ন, এর মধ্য়ে কিছু নাম ফের ঢুকলে, ভোটার-বিন্যাস ঠিক থাকবে তো? ‘কালীঘাত-তৃণমূল;-এর প্রাক্তন কাউন্সিলর ও নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, ”পরিকাঠামো দরকার। তার পরিকাঠামো নেই। কারও সাথে আলোচনা না করে একতরফাভাবে, কোনও প্রভুর আদেশে ওরা করতে চাইছেন। যেটা কখনই বাস্তব সম্মত নয়। এত তাড়াহুড়োর কী আছে, সময় দেওয়া হোক।”

ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে তেসরা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভাব-অভিযোগ জানানোর সময়সীমা দিয়েছে কলকাতা পুর কর্তৃপক্ষ। এতে জনশুনানি, প্রত্যেক ওয়ার্ডের পরিকাঠামো বৃদ্ধি, ঠিকঠাক ম্যাপ ও পার্ট নম্বর প্রকাশের দাবি তুলেছে বিরোধীরা। জনসংখ্যা না ভোটার, কীসের ভিত্তিতে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। যদিও কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানান, ‘খুব ভাল সিদ্ধান্ত। এতে সুবিধা হবে।’ আবার বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, ‘ধর্মের ভিত্তিতে ভাগাভাগির জন্য করা হচ্ছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *